ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯শে মে ২০২৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


সকালে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি পুলিশের, সন্ধ্যায় প্রত্যাহার


প্রকাশিত:
১৮ মে ২০২৬ ২০:৫৮

চট্টগ্রাম নগরের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক ও এর আশপাশে সভা-সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সোমবার (১৮ মে) সকালে জারি করা এই গণবিজ্ঞপ্তি সন্ধ্যায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ।

সকালে চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মুখোমুখি অবস্থানের পর সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছিল।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিএমপি কমিশনারের সই করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এতদ্বারা চট্টগ্রাম মহানগরীর সর্বসাধারণের সদয় জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিটি আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রত্যাহার করা হলো। জনস্বার্থে এ গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হলো।’

চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মুখোমুখি অবস্থান ও দুই দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে রবিবার রাতভর উত্তেজনার পর সোমবার সকালে নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ান হাট পর্যন্ত জনসমাবেশ ও মিছিল-সমাবেশ ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল সিএমপি।

জনসমাবেশ ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধের মধ্যে সোমবার দুপুরে টাইগারপাস এলাকায় একদল শিক্ষার্থী জুলাই গ্রাফিতি আঁকতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নগরের টাইগারপাস এলাকায় ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করে এনসিপি। দলটির নেতারা জানান, টাইগার পাস এলাকায় সিটি করপোরেশনের প্রবেশ ফটকের সামনে অন্তত চারটি পিলারের গ্রাফিতির ওপর সাদা ও হলুদ রং করা হয়েছে। সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে।

এরপর রাতে সিটি করপোরেশন যাওয়ার সড়কে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাতকে দায়ী করে জুলাইয়ের গাদ্দারসহ বিভিন্ন লেখা লেখেন। এরপর ছাত্রদলসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা এসে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। এরপর লেখাগুলো মুছে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।