ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫শে জুন ২০২৪, ১২ই আষাঢ় ১৪৩১


তোপের মুখে আ.লীগ নেতা

মোশতাককে বঙ্গবন্ধুর সাথে আ.লীগ নেতার তুলনা,বহিস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ


২৮ মার্চ ২০২৩ ০০:১৫

আপডেট:
২৮ মার্চ ২০২৩ ০০:৪৪

মোশতাককে বঙ্গবন্ধুর সাথে আ.লীগ নেতার তুলনা,বহিস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ

খন্দকার মোশতাক আহমেদকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রতিযোগী বলে মন্তব্য করেছেন জামালপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান স্বপন।
গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলার নরুন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভা ও কেককাটা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতির পিতা হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত খন্দকার মোশতাককে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতিযোগী উল্লেখ করে তার দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান স্বপনকে বলতে শোনা যায়, ‘খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতিযোগী ছিল, ছিল কি না? বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মোশতাক সরকারে যোগ দিয়েছিল। ’

নরুন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. এম এ মান্নান খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত নরুন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কোনো নেতাই তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ কিংবা শুধরে দেননি বলেও জানা গেছে।

বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান স্বপন বলেন, দুজনের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ছিল, ইতিহাস তাই বলে।

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. সুরুজ্জামান বলেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কি জানেন না যে, বেইমান মীরজাফর খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারী ছিল, হত্যাকারীদের দালাল ছিল। বেইমান মোশতাক কখনই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতিযোগী ছিল না। অথচ সেই খুনি মোশতাককে তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতিযোগী বলে বক্তব্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃতি ও জাতির পিতাকে হেয় করার অপচেষ্টা করেছেন। ওই সভায় উপস্থিত কোনো নেতা তার বক্তব্যের প্রতিবাদ না করার বিষয়টি আশ্চর্য বলেও মনে করেন অধ্যাপক মো. সুরুজ্জামান। তিনি এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আছাদুজ্জামান আকন্দ বাবু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এতবড় ধৃষ্টতাপূর্ন বক্তব্য রাখার ধৃষ্টতা তাকে কে দিয়েছে? এতে করে স্পষ্টত প্রমাণ হয় সে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে না। সে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক ভিপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লানজু।

এ বিষয়ে কথা বলতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. এম এ মান্নান খানের মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।