ঢাকা শুক্রবার, ১লা মার্চ ২০২৪, ১৯শে ফাল্গুন ১৪৩০


নিয়মের তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ


২২ আগস্ট ২০২৩ ০৪:০১

আপডেট:
১ মার্চ ২০২৪ ১১:০৬

নিয়মের তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ

চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার মহিলা কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে। কলেজের জ্যেষ্ঠতার তালিকা অনুযায়ী সাত শিক্ষককে ডিঙিয়ে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহানা শরমিন তালুকদারকে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন গভর্নিং বডির সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি একজন ব্যবসায়ী নেতা ও এফবিসিসিআই সভাপতি। এদিকে ছয় মাসের মধ্যে অধ্যক্ষ নিয়োগের নিয়ম থাকলেও তা মানছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে বলা আছে, কোনো কলেজে অধ্যক্ষের পদ খালি হলে উপাধ্যক্ষ বা জ্যেষ্ঠ পাঁচ শিক্ষকের মধ্যে একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা অনুযায়ী প্রথম পাঁচজনের একজনকে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগের নিয়মও রয়েছে।

যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার এক বছরের মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ সম্পন্ন না হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত কাগজপত্র ও কার্যবিবরণী গ্রহণ করা হয় না।

গত ১ আগস্ট অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে জানতে চেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গভর্নিং বডির সভাপতি বরাবর একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। চিঠিতে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যক্ষ নিয়োগ কাকে দেওয়া হয়েছে, এসংক্রান্ত রেজল্যুশন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ওই চিঠি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো ই-মেইল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সরিয়ে ফেলেছেন।

কলেজের জ্যেষ্ঠতম পাঁচ শিক্ষককের তালিকায় রয়েছেন যথাক্রমে রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনিরা চৌধুরী, মনোবিজ্ঞানের ফাতেমা জেবুননেসা, হিসাব বিজ্ঞানের ফরিদা ইয়াসমিন, গণিত বিভাগের মার্জিয়া বেগম চৌধুরী ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের কামরুন নাহার হাসিনা বানু।

সহকারী অধ্যাপক মুনিরা চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে কাউকে নিয়োগ দিলে কিছু বলার নেই। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের একজন বলেন, শুধু বোর্ডের সভাপতির পছন্দ হওয়ায় তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব পেয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করছেন, অনিয়ম করছেন। এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিও গায়েব করে ফেলছেন। যদিও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সোহানা শারমিন তালুকদার চিঠি গায়েবের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক ফাহিমা সোলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ডিঙিয়ে নিচু স্তরের একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলো। চিঠি গায়েব করার অভিযোগ এল, তাহলে গভর্নিং বডির সভাপতি কী করছেন? ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া প্রসঙ্গে গত ১ আগস্ট কলেজ সভাপতির বরাবর একটি চিঠি ইস্যু করেছিলাম। ১০ দিনের মধ্যে উত্তর পাইনি।’

গভর্নিং বডির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বা অনিয়মের বিষয়টি আমরা দেখছি। সামনে মিটিং ডেকেছি, সেখানে একটি সমাধান হবে।’