অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়: তিল চাষের টাকা জমিয়ে হজে গেলেন আতোয়ার রহমান
মানুষের প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর মহান আল্লাহর রহমত যে অভাবকে জয় করে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে, তার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ধামইরহাট থানার আড়ানগর ইউনিয়নের কাজিপুরের আতোয়ার রহমান। দীর্ঘ কয়েক দশকের লালিত স্বপ্ন পূরণে সব বাধা ডিঙিয়ে তিনি এখন অবস্থান করছেন পবিত্র মক্কা নগরীতে।
সাইকেলে বই ফেরি থেকে জীবন শুরু এলাকাবাসীর কাছে আতোয়ার রহমান এক পরিচিত মুখ। বছরের পর বছর ধরে একটি পুরোনো সাইকেলের পেছনে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বই সাজিয়ে গ্রাম থেকে গ্রাম, হাট থেকে বাজারে ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। বই বিক্রির সেই সামান্য উপার্জনেই টেনেছেন অভাবের সংসারের ঘানি। কিন্তু অভাবের সেই কঠিন দিনগুলোতেও মনের কোণে সযত্নে লালন করেছেন বাইতুল্লাহ জিয়ারতের স্বপ্ন।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও হজের সংকল্পে ছিলেন অটল। হজের প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে জীবনের শেষভাগে এসেও কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন তিনি। ধামইরহাট-নজিপুর সড়কের পাশে তিল চাষ করেন আতোয়ার। সড়কের ধারে একজন বৃদ্ধের এই নিরলস পরিশ্রম স্থানীয় মানুষের নজর কাড়ে এবং অনেককে অনুপ্রাণিত করে।
নিজের তিল তিল করে জমানো সঞ্চয় আর স্থানীয় কিছু সহৃদয় মানুষের সহযোগিতায় আতোয়ার রহমানের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। তিনি এখন মহান আল্লাহর ঘরের মেহমান। তার এই যাত্রায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আতোয়ার রহমান প্রমাণ করেছেন—সৎ নিয়ত আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সৃষ্টিকর্তা পথের দিশা ঠিকই করে দেন। আজ তার এই প্রাপ্তিতে খুশির জোয়ার বইছে কাজিপুরের সাধারণ মানুষের মাঝেও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে তার এই অদম্য স্পৃহা ও সফলতার গল্প শেয়ার করে দোয়া প্রার্থনা করছেন।
বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং হজ্ব পালনের আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছেন। তার পরিবার এবং এলাকাবাসী মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন তার এই ত্যাগ ও পরিশ্রম কবুল হয় এবং তিনি সুস্থ শরীরে দেশে ফিরে আসেন।
