ঢাকা রবিবার, ১০ই মে ২০২৬, ২৮শে বৈশাখ ১৪৩৩


সকাল-বিকাল বদলায় দর: পাইকারদের ‘কারসাজিতে’ অস্থির ডিমের বাজার


প্রকাশিত:
১০ মে ২০২৬ ১৩:০৯

সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটানোর সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস ডিম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে অস্থিরতার পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে পাইকারি ব্যবসায়ীদের ‘কারসাজির’। অভিযোগ রয়েছে, বাজার তদারকির অভাবে পাইকাররা দিনে দুবার দাম পরিবর্তন করছেন, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর মিরপুর এলাকার বিভিন্ন বাজার ও মহল্লার দোকান ঘুরে দেখা যায়, এক মাস আগে যে ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা ডজনে বিক্রি হতো, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে ডিমের দামের কোনো স্থিরতা নেই। মিরপুর ১ নম্বরের পাইকারি দোকানগুলোতে সকালে এক দামে ডিম বিক্রি হলেও দুপুরে বা বিকেলে তা বদলে যাচ্ছে। ‘মেসার্স রাজিব পুষ্টি বিতান’ নামক একটি পাইকারি দোকানে সকালে প্রতি একশ লাল ডিম ১ হাজার ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও দুপুর ১টার দিকে সেই দর বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০ টাকা করা হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই মূল্যবৃদ্ধির কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বিক্রেতারা। একই বাজারের অন্য পাইকাররা আবার একেক দরে ডিম বিক্রি করছেন, যার পেছনে পরিবহন খরচ ও এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন অজুহাত দেওয়া হচ্ছে।

মাছ ও মাংসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভরসা ছিল ডিম। কিন্তু সেই ডিমের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। মিরপুর বাজারে আসা ক্রেতা এমদাদুল হক আক্ষেপ করে বলেন, “মাছ-মাংস কেনা অনেক আগেই কমিয়েছি। এখন বাচ্চাদের ডিম খাওয়াবো, তারও উপায় নেই। আমরা সাধারণ মানুষ কী খেয়ে বাঁচবো তা বুঝতে পারছি না।”

আরেক ক্রেতা আহসান হাবিব বলেন, “যাই জিজ্ঞাসা করি, বিক্রেতারা শুধু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাত দেয়। ডিমের বাজারে এমন নৈরাজ্য মেনে নেওয়া যায় না।”

বাজারের খুচরা দোকানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে তা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনতে পরিবহন খরচ ও ভেঙে যাওয়া ডিমের লোকসান পুষিয়ে নিতে তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সহিদ ডিম ঘরের বিক্রেতা মো. সামিউল ইসলাম জানান, পাইকাররা চাহিদা বুঝলেই দাম বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, “রোজার পরে ৯৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন প্রতি একশ ডিমে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে পাইকারদের।”

পাইকারি বিক্রেতাদের একাংশের অভিযোগ, বড় বড় ফার্মগুলো বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ডিমের আড়তদার আনোয়ারের মতে, বড় ফার্মগুলো দাম বাড়িয়ে ছোট খামারিদের চাপে ফেলে দিচ্ছে, ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং দাম বেড়ে যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিত্যপণ্যের বাজারে নজরদারি না থাকলে এবং পাইকারদের এই ‘সকাল-বিকাল’ দর পরিবর্তনের প্রবণতা বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।