ঢাকা বুধবার, ১৫ই এপ্রিল ২০২৬, ২রা বৈশাখ ১৪৩৩


এক দশক ধরে হামলা-মামলা, পুড়িয়ে দেওয়া হয় বাড়ি: প্রাণভয়ে দেশান্তরী নিকলীর ছাত্রদল নেতা উজ্জ্বল


প্রকাশিত:
১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০১:০৯

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন মো. উজ্জ্বল নামের এক ছাত্রদল নেতা। বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি দেশান্তরী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. উজ্জ্বল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০১২ সালে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই তাঁর ওপর নানাভাবে হয়রানি শুরু হয়। ২০১৭ সালে স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা ইমরুল হাসানের নেতৃত্বে উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়।

নির্যাতনের মাত্রা এখানেই থেমে থাকেনি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের সময় রাজনৈতিক মাঠ থেকে উজ্জ্বলকে সরিয়ে দিতে তাঁর ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উজ্জ্বলকে কৌশলে ঢাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আফজালের অনুসারীদের নেতৃত্বে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়[1]।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আক্রোশ থেকে উজ্জ্বলের বসতবাড়িও রেহাই পায়নি। স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালে গভীর রাতে নিকলীতে উজ্জ্বলের নিজ বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সে সময় ঘরে থাকা পরিবারের সদস্যরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। একের পর এক হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিতে কোণঠাসা হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় একপর্যায়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এই তরুণ। তবে দেশান্তরী হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি থামেনি। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার কদমতলী থানায় উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে আরও একটি গায়েবি ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে উজ্জ্বলের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বসতবাড়ির আশপাশে প্রায়ই অজ্ঞাতপরিচয় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায়। অব্যাহত হুমকির কারণে পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের আক্ষেপ, বারবার স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানিয়েও তাঁরা কার্যকর কোনো আইনি সহায়তা বা প্রতিকার পাননি।

এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁরা বলছেন, কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে একজন নাগরিকের ওপর এভাবে ধারাবাহিক হামলা, সাজানো মামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।