কারামুক্ত হয়েই বিএনপিতে যুবলীগ নেতা বাচ্চু ব্যাপারী, ক্ষুব্ধ তৃণমূল
জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পরই রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তন করেছেন শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা বাচ্চু ব্যাপারী (বাচ্চু বেপারী)। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে বের হয়েই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। একসময়ের দাপুটে এই নেতার হঠাৎ দলবদলের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিস্ফোরক ও দুদকের মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান বাচ্চু ব্যাপারী। তবে জেল থেকে বেরিয়েই তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ (যুবলীগ) ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেকে নিরাপদ রাখতে এবং নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো থেকে বাঁচতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিগত সরকারের আমলে দাপুটে ও বিতর্কিত এই নেতার বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণায় তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন বাচ্চু ব্যাপারী। পরে ১৫ ডিসেম্বর (২০২৪) বেলা একটার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার চর পালং এলাকার নিজ বাসভবন থেকে ডামুড্যা ও পালং মডেল থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশ থেকে ১০টি কালো ব্যাগে রাখা ১২৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই ঘটনায় ডামুড্যা থানায় পুলিশের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে বাচ্চু ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
দুদকের মামলা ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
শুধু বিস্ফোরক মামলাই নয়, বাচ্চু ব্যাপারীর বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির বড় ধরনের অভিযোগও। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় চার কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১–এর উপপরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
শরীয়তপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক এই কাউন্সিলর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যদের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ, গত দেড় দশকে টেন্ডারবাজি, ভূমিদস্যুতা ও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির মতো নানা অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এসব কারণে তাঁর বিএনপিতে যোগদান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
