মুকসুদপুরে গরু জবাইয়ে বাধা: ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’র তীব্র নিন্দা ও হুঁশিয়ারি
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ও সিঁধিয়াঘাট এলাকায় গরু জবাই ও গোশত বিক্রির ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’। তারা এই ঘটনাকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত বলে অভিহিত করেছেন।
সম্প্রতি ‘কাশিয়ানী সময়’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সংগঠনটি জানায়, সিঁধিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) খন্দকার আওরঙ্গজেব স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা ও গোশত ব্যবসায়ীদের ওপর গরু জবাই না করার জন্য ভয়ভীতি ও আইনি হয়রানির হুমকি দিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ‘উপর মহলের নির্দেশে’ তিনি এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। দেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার দিয়েছে। গরু জবাই বা গোশত কেনাবেচা মুসলমানদের ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। অতীতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সচেতন জনতার আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। মুকসুদপুরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অন্যায্য ও বেআইনি নিষেধাজ্ঞা বরদাশত করা হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’ তাদের দাবিনামা তুলে ধরেন:
১. আইনি অধিকারের নিশ্চয়তা: মুকসুদপুরের জলিরপাড়সহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে মুসলমানদের ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী গরু জবাই, গোশত প্রস্তুত ও কেনাবেচার ক্ষেত্রে সকল প্রকার অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: ক্ষমতার অপব্যবহার করে যে বা যারা সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় কাজে বাধা দিয়েছে এবং হুমকি প্রদান করেছে, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা: কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত এজেন্ডা বা উসকানিমূলক আচরণের কারণে যাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, তবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ওপর যেকোনো আঘাত নীতিগত, আইনি ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”
তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এ ধরনের অসাংবিধানিক কাজে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করা হবে। এ দেশে মুসলমানদের সর্বত্র কোরবানি ও গরু জবাই করার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
