ঢাকা রবিবার, ২৮শে জুন ২০২৬, ১৪ই আষাঢ় ১৪৩৩


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ: ডেমরায় ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় পুলিশ ও এসি ল্যান্ডের জরুরি তদন্তের নির্দেশ


প্রকাশিত:
২৭ জুন ২০২৬ ২৩:৩১

রাজধানীর ডেমরা থানাধীন ডগাইর মৌজায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী 'ওয়াকিব আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ এস্টেট' (ইসি নং- ৪১১/সি)-এর লিজকৃত সম্পত্তি নিয়ে এক ভয়াবহ জালিয়াতি ও দখলের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় হাফিজ উল্লাহ কবির ও সরোয়ার হোসেন নামের ব্যক্তিরা দখল ত্যাগের বিনিময়ে ২৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেও পুনরায় সন্ত্রাসী কায়দায় সম্পত্তিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই একটি রেজিস্ট্রিকৃত 'না-দাবী নামা' দলিলের (রেজ নং ১০৬১১) মাধ্যমে হাফিজ উল্লাহ কবির স্বীকার করেন যে, তিনি ওই জমির স্থাপনা সরিয়ে নেবেন এবং বিনিময়ে ২৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। দলিলে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, ভবিষ্যতে তিনি বা তার কোনো ওয়ারিশ এই জমির ওপর কোনো প্রকার দাবি বা স্বত্ব দাবি করবেন না। কিন্তু ভুক্তভোগী শেখ এশিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহিউদ্দিন শেখ অভিযোগ করেছেন, টাকা নেওয়ার কিছু দিন পর থেকেই ওই চক্রটি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে পুনরায় জমির দখল নিতে শুরু করে এবং সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলে।

ঘটনাটি নিয়ে মো. মহিউদ্দিন শেখ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক যন্ত্র নড়েচড়ে বসেছে।

গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম-মেট্রো) মো. আশরাফুল ইসলাম (বিপিএম) স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ডিএমপি কমিশনারকে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় (স্মারক নং- ৪৪.০১.০০০০.২০৩.০৭.০০১.২৬-১৪১৮)।

সদর দপ্তরের নির্দেশের পর ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওয়ারী বিভাগের এডিসি (ক্রাইম) মো. তারেক জুবায়ের ডেমরা থানার ওসিকে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ গত ৬ জুন ২০২৬ তারিখে ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল ইসলাম মাতুাইল ভূমি অফিসকে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন (স্মারক নং- ৩১.৩০.২৬২৬.১৮৪.৫২.০০৭.২৬-৭৭০)।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হাফিজ উল্লাহ কবির ও তার সহযোগী সরোয়ার হোসেন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তারা লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পরিবেশ নষ্ট করছে এবং ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করছে। চক্রটি ভুয়া সিএস রেকর্ড এবং সিটি জরিপের দোহাই দিয়ে ওয়াকফ সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে, যা আইনত দণ্ডনীয়।

ওয়াকফ এস্টেটের অবস্থান: তফসিল অনুযায়ী, ডগাইর মৌজার জে.এল নং ৩৩০-এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দাগে (দাগ নং- ১৬৫১, ১৬৩৩, ১৬৭০ সহ আরও অনেক) এই সম্পত্তি অবস্থিত। ওয়াকফ আইন অনুযায়ী, এই সম্পত্তির কোনো অংশই ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরযোগ্য নয়, যা লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের দাবির পক্ষে বড় আইনি ভিত্তি।

শেখ এশিয়া লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সরকারি নিয়ম মেনে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এই সম্পত্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা এখন প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

নথিপত্রগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অভিযুক্ত পক্ষ ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের দাবি ত্যাগ করার পর পুনরায় দখল করা একটি স্পষ্ট প্রতারণা। পুলিশ সদর দপ্তর ও ভূমি প্রশাসনের এই ব্যাপক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ আসতে যাচ্ছে।