প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় সিলেটের কোতোয়ালি থানার এএসপি সোহেল কারাগারে
বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্সকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ইভা এই আদেশ দেন।
বাদিনীর আইনজীবী কামরুজ্জামান শাহীন এ বিষয়ে এনটিভি অনলাইনকে বলেন, গত ৯ জুন একই আদালত সোহেলের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৬ /৪২০ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। পরে আজ মামলার বাদী সহকারি কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী আসামি সোহেলের জামিন বাতিলের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, সোহেল ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট বাদিনীর সঙ্গে আপস করার শর্তে জামিন নেন কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্টে অভিযুক্ত সোহেল কনো আপস-মীমাংসা করেন নাই। তাই তার জামিন বাতিল করা হোক।
আসামিপক্ষে সোহেলের আইনজীবী আবুল কালাম খান আদালতে বলেন, অভিযুক্ত সোহেল বাদিনীর কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেন নাই। বাদিনী মিথ্যা অভিযোগে তাকে হয়রানি করছেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন বাতিল করে সোহেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর অভিযুক্ত সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বাদীনি ও সোহেল উদ্দিন প্রিন্স ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। পরিচয়ের সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। সোহেল উদ্দিন বাদীনিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। বাদীনি ও তার পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে সোহেল উদ্দিন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে ২ কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার টাকা নেন । পরে বাদীনিকে অভিযুক্ত সোহেল উদ্দিন আর বিয়ে করেননি। আর টাকাও ফেরত দেননি।
প্রসঙ্গত, সোহেল উদ্দিনের স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের অপর একটি মামলা বিচারাধীন আছে।
