নিউজ করতেও দিতে হয় টাকা! দৈনিক দেশ প্রতিদিন সম্পাদকের অভিনব জালিয়াতি
সাংবাদিক নিয়োগের নাম করে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া আইডি কার্ড বিক্রি এবং মাসে মাসে 'নিউজ এডিটর ফি' আদায়ের নামে এক বিশাল প্রতারণার জাল পেতেছেন 'দৈনিক দেশ প্রতিদিন' পত্রিকার সম্পাদক জোবায়ের হোসেন যাদু। শুধু পেশাগত প্রতারণা নয়, তার বিরুদ্ধে ১০-১২টির বেশি বিয়ে এবং নারীদের সাথে প্রতারণারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের তথ্য ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশটে এই ভয়ংকর প্রতারণার চিত্র ফুটে উঠেছে।
নিয়োগের নামে অর্থ লুট অনুসন্ধানে জানা যায়, জোবায়ের হোসেন যাদু জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। নিয়োগের আগে কোনো টাকা লাগবে না বলে জানানো হলেও পরবর্তীতে আইডি কার্ড ও 'প্রশিক্ষণ' বাবদ মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রতিনিধি মোস্তাক আহমেদ বাপ্পীর সাথে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে দেখা যায়, তার কাছ থেকে ৩,৪৯৯ টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর নিউজ প্রকাশ না করে উল্টো তাকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দেওয়া হয়েছে।
নিউজ প্রকাশ করতে মাসে ১০০০ টাকা দাবি! সাধারণত সংবাদপত্রের নীতিমালায় প্রতিনিধিরা বেতন পান অথবা বিজ্ঞাপনের কমিশন পান। কিন্তু 'দৈনিক দেশ প্রতিদিন'-এর ক্ষেত্রে নিয়ম উল্টো। এখানে নিউজ প্রকাশ করতে হলে প্রতিনিধিকে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে 'নিউজ এডিটর বিল' দিতে হয়। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সম্পাদক যাদু স্পষ্ট জানিয়েছেন, "১০০০ টাকা দিলে প্রতিনিধিদের মায়া লাগবে এবং তারা একটিভ হবে।" এই অযৌক্তিক ফি দিতে অস্বীকার করলেই সাংবাদিকদের গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরিচালক নিয়োগ ও শেয়ার বাণিজ্যের ফাঁদ শুধু সাংবাদিক নিয়োগ নয়, পত্রিকাটির শেয়ার দেওয়ার নাম করে এবং পরিচালক বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা নেওয়ার পর যাদু যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং সদস্যদের গ্রুপ থেকে ব্লক করে দেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে সদস্য সংখ্যা মাত্র ১১-১২ জন দেখা যায়, যা একটি জাতীয় দৈনিকের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
অশ্লীল ভাষা ও দুর্ব্যবহার ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা যখন তাদের পাওনা টাকা ফেরত চান, তখন সম্পাদক জোবায়ের হোসেন যাদু অত্যন্ত নিচুমানের ভাষা ও গালিগালাজ ব্যবহার করেন। স্ক্রিনশটে দেখা যায়, টাকা ফেরতের দাবিতে তিনি এক প্রতিনিধিকে অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করেছেন এবং আইন বা মামলার পরোয়া করেন না বলে দম্ভোক্তি করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বহুবিয়ে ও নারী প্রতারণা পেশাগত প্রতারণার পাশাপাশি জোবায়ের হোসেন যাদুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উঠেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এ পর্যন্ত ১৩টি বিয়ে করেছেন। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে, বাড়ি-গাড়ির লোভ দেখিয়ে এবং তথ্য গোপন করে তিনি একের পর এক বিয়ে করেন। কয়েক মাস সংসার করার পর মেয়েদের ভোগ্যপণ্যের মতো ব্যবহার করে তিনি আবার নতুন শিকারে নামেন। তার ১৩তম স্ত্রীসহ অনেক নারী এখন তার এই লালসা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগীদের ডাক এই চক্রের হাত থেকে সাংবাদিক সমাজকে বাঁচাতে এবং প্রতারণার অবসান ঘটাতে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। তারা দেশজুড়ে 'দৈনিক দেশ প্রতিদিন'-এর কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, অবিলম্বে এই ভুয়া সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক যাতে আর কোনো সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ তার প্রতারণার শিকার না হয়।
