ঢাকা বুধবার, ১লা জুলাই ২০২৬, ১৭ই আষাঢ় ১৪৩৩


যাত্রাবাড়ীতে বৃদ্ধ বাবা ও বোনকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ, 'মামলা নিচ্ছে না' পুলিশ


প্রকাশিত:
৩০ জুন ২০২৬ ১৫:১৯

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় নিজ বড় ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ বাবা ও বোনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তবে ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত যুবকের নাম মোঃ সাইদুল ইসলাম খান। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, সাইদুল দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বৈরী আচরণ করে আসছেন। এর আগে তিনি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁর আপন ছোট বোন, ভাই ও কোলের শিশুসহ তাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তিনি তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা ও বোনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন ওই ফেসবুক পোস্টের কারণ জানতে চাইলে সাইদুল ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বৃদ্ধ বাবার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে সাইদুল বাবার গলা টিপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন এবং কাঁচি দিয়ে তাঁর ঘাড়ে ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এ সময় বোন তাঁর বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সাইদুল কাঠের টুকরো দিয়ে পিটিয়ে তাঁকেও গুরুতর জখম করেন।

আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করা হলেও তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি অভিযোগ করেছে।

ভুক্তভোগী পিতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "যাকে এত কষ্ট করে বড় করলাম, সে-ই আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করল। পুলিশের কাছে গিয়েও আমরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। আমরা এখন কোথায় যাব?"

আইনজীবীদের মতে, বাবার ওপর সন্তানের এই হামলা ও শারীরিক নির্যাতন দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৫০৬ ধারা এবং পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়টি সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতাভুক্ত।

এ বিষয়ে জানতে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে থানা-পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম খানের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।