ঢাকা শনিবার, ৩০শে মে ২০২৬, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ক্রেতা সংকটে ‎চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ


প্রকাশিত:
৩০ মে ২০২৬ ১৭:০২

‎লক্ষ্মীপুরে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রামনগর মাদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় এমন ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাড়ি থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। তবে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়া এবং পাইকারী ক্রেতার সংকটের কারণে চামড়াগুলো বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণে রাখতে না পেরে এবং দুর্গন্ধ ও পঁচে যাওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতি বছরই চামড়া নিয়ে এমন সংকট তৈরি হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর ওপর।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও মাদরাসার পক্ষ থেকে শ্রমিক নিয়োগ ও গাড়ি ভাড়া করে বিভিন্ন বাড়ি থেকে জবাইকৃত পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। চামড়া ক্রয়ের জন্য কোনো পাইকারী আড়তদার না পাওয়ায় চামড়াগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

তারা আরও জানান, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রায় ১৫০টি চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। এতে মাদ্রাসাটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার ফান্ড থেকে অর্থ ব্যয় করে শ্রমিকের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু এক দিন অপেক্ষা করেও কোনো পাইকার পাওয়া যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে পরিবেশ রক্ষার্থে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। এতে মাদ্রাসার বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুরের নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, বিষয়টি জানা নেই, পর্যাপ্ত চামরা সংরক্ষণে ব্যবস্থা ছিল। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা সুপারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।