ঢাকা শনিবার, ৩০শে মে ২০২৬, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


সমঝোতায় ব্যর্থ হলে ইরানে ফের সামরিক হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের: প্রতিরক্ষামন্ত্রী


প্রকাশিত:
৩০ মে ২০২৬ ১৬:১০

পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

শনিবার (৩০ মে) সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হেগসেথ বলেন, “প্রয়োজনে আবারও অভিযান শুরু করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে এবং আমরা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের অস্ত্রভান্ডার এবং সামরিক সক্ষমতা যেকোনো ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত।”

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরে আসছে না বলে নিশ্চিত করেছেন পেন্টাগন প্রধান। তিনি জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যাতে করে অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানো যায়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

পিট হেগসেথ আরও বলেন, “আমরা একই সময়ে একাধিক কাজ করতে সক্ষম এবং এ বিষয়ে আমরা খুবই শক্ত অবস্থানে আছি।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ধৈর্যশীল থেকে এমন একটি ‘চমৎকার চুক্তি’ করতে চান, যা নিশ্চিত করবে ইরান যেন ভবিষ্যতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের কাছ থেকে পাওয়া একটি প্রস্তাব নিয়ে হোয়াইট হাউজে আলোচনা চলছে। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা আলোচনার টেবিলে স্থায়ী সমাধানের জন্য বাড়তি সময় দেবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযানে ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচকরা বিদ্যমান বড় ধরনের মতপার্থক্য দূর করে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সাথে বজায় রাখছে বাইডেন প্রশাসন—যা হেগসেথের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।