ইসরায়েলে ফের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নেতানিয়াহুকে শান্ত থাকার আহ্বান ট্রাম্পের
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। এ ঘটনার পর ইসরায়েল কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত 'রামাত ডেভিড' বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার মূল উৎস ছিল এই ঘাঁটি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেন, "ইসরায়েল বারবার লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার কারণেই এই প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে।" তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইসরায়েল যদি হামলা বন্ধ না করে, তবে তাদের আরও ‘কঠোর ও দুঃখজনক’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানের এই পদক্ষেপকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যদিও তারা দাবি করেছে যে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলার পরপরই হাইফাসহ উত্তর ইসরায়েলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে বলেন, "অবশ্যই আজ রাতে তেহরানে আগুন জ্বলবে!" এদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গাজার সঙ্গে সব সীমান্ত ক্রসিং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।
সংঘাত যখন চরম আকার ধারণ করছে, ঠিক তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, "ইরানের হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আশা করি ইসরায়েল প্রতিশোধ নেবে না। প্রতিশোধ নিলে এই সংঘাত গত ৩ হাজার বছরের মতোই চলতে থাকবে।" ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানকেও আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান।
ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে। রবিবার লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কফার তেবনিত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ‘ফসফরাস গোলা’ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে গাজা সিটির আল-নাসর এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
হামলা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে ইরাক ও সিরিয়াও তাদের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে বেসামরিক বিমান চলাচল স্থগিত করেছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু লেবানন। ইসরায়েল ও ইরান উভয় পক্ষই ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে এবং আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে শক্তি প্রদর্শন করছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
