৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ফিলিপাইন
ফিলিপাইনে সোমবার (৮ জুন) সাতসকালে আঘাত হেনেছে ৭.৮ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এই ভয়াবহ কম্পনের পরপরই এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার লাখ লাখ মানুষকে দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে এর প্রভাবে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে ফিলিপাইন উপকূলে প্রায় ১০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানতে পারে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও ৩ ফুটের বেশি উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফিলিপাইন ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও জাপানে জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কো এক জরুরি রেডিও ও টেলিভিশন বার্তায় দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “কোনো ধরনের বিলম্ব না করে আপনারা দ্রুত উপকূলীয় এলাকা ছেড়ে উঁচু স্থানে চলে যান। মিন্দানাওয়ের একাধিক উপকূলীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাডে তাকাচিও তার দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সুনামির বিপদ এড়াতে সরকারি নির্দেশনা ও উচ্ছেদ আদেশ যেন সবাই কঠোরভাবে মেনে চলেন।
সকালবেলা আচমকা এই শক্তিশালী কম্পনে ফিলিপাইনের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কম্পনের স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড, যার ফলে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। সুনামির ভয়ে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে মানুষ দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছে।
উল্লেখ্য, ফিলিপাইন ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলো ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। তবে এবারের ৭.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
