শান্তি চুক্তির নতুন প্রস্তাব ইরানের: ক্ষতিপূরণ ও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইরান নিকটবর্তী এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাওয়াদি প্রথমবারের মতো এই শান্তি প্রস্তাবের রূপরেখা তুলে ধরেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ-কে তিনি জানান, প্রস্তাবনায় ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা (ফ্রিজ) অর্থ ফেরত দেওয়া এবং মার্কিন সামুদ্রিক অবরোধ অবসানের শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।
ইরানের দেওয়া এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আপাতত ইরানের ওপর নতুন কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবে পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়ে একটি ‘ভালো চুক্তি’ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
এদিকে, চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষ থেকেই মিশ্র সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। একটি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফ্রিজ করে রাখা অর্থের একটি অংশ ছাড়তে রাজি হতে পারে এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কিছুটা নমনীয়তা দেখাতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ‘হরমুজ প্রণালি’ খোলা রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্প জানিয়েছেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “যদি বোমাবাজি না করে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানো যায়, তবে তা সবার জন্যই ভালো হবে।”
শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। দেশটি নিশ্চিত করেছে যে, ইরান তাদের মাধ্যমে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে। পাকিস্তানি সূত্রের ভাষ্য, দুই পক্ষই বারবার তাদের শর্ত পরিবর্তন করছে, যা আলোচনার গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমানো ও তাদের পারমাণবিক শক্তি ধ্বংস করা। তবে যুদ্ধের চার মাস পেরিয়ে গেলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলা সম্ভব হয়নি। উল্টো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানি শাসনব্যবস্থা এখন পর্যন্ত টিকে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি প্রস্তাবের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষকে তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতায় আসতে হবে।
