ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯শে মে ২০২৬, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


বদলগাছীতে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন: এবারই প্রথম অ্যাপে বিক্রি করতে পারবেন কৃষক


প্রকাশিত:
১৯ মে ২০২৬ ১৫:৫৩

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে চলতি বোরো মৌসুমের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত রবিবার (১৮ মে) বেলা ৩:০০ টায় উপজেলা খাদ্যগুদাম (এলএসডি) চত্বরে ফিতা কেটে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহাদেবপুর) আসনের সংসদ সদস্য জনাব ফজলে হুদা বাবুল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশরাত জাহান ছনির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ, বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাদী চৌধুরী টিপু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক মো. বেনজির হোসেন, বদলগাছী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস রেজাউল নবী সান্ডু, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার, ওএমএস ডিলার এবং প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ কৃষকেরা।

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বদলগাছী উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে ৩৬ টাকা কেজি (প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা) দরে ১ হাজার ২২৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ মিলারদের নিকট থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে ৩০৯ মেট্রিক টন চাল এবং ১৫৬ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য জনাব ফজলে হুদা বাবুল বলেন, "সরকার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রতি মণ ধান ১,৪৪০ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং কৃষি কাজে তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।"

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইশরাত জাহান ছনি বলেন, "এবারই প্রথম বদলগাছী উপজেলায় ডিজিটাল অ্যাপসের মাধ্যমে সরাসরি ধান ক্রয় করা হচ্ছে। তবে ডিজিটাল পদ্ধতির পাশাপাশি কৃষকদের সুবিধার্থে সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও ধান বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে।"

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাপসের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করায় কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়াই প্রকৃত কৃষকেরা সরাসরি সরকারি গুদামে ফসল বিক্রি করতে পারছেন। এতে প্রান্তিক চাষিরা সরাসরি লাভবান হচ্ছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।