ঢাকা শুক্রবার, ১৯শে জুলাই ২০২৪, ৫ই শ্রাবণ ১৪৩১


নকলা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহণ


২২ জুন ২০২৪ ১২:০১

আপডেট:
১৯ জুলাই ২০২৪ ১৫:১৫

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় নিজ নিজ দায়িত্বভার গ্রহনগ্রহন করেছেন। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবস তথা বুধবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম মাহবুবুল আলম সোহাগ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লাকী আক্তার নিজ নিজ দায়িত্বভার গ্রহন করেন। তারা দুইজন একসাথে উপজেলা পরিষদে এসে দায়িত্বভার গ্রহন করেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বানিনসহ উপজেলায় কর্মরত সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগন, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অনেকে তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেনেন।

পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এ.কে.এম মাহবুবুল আলম সোহাগ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, নকলা উপজেলাবাসী যে আশা প্রত্যাশা নিয়ে তাদেরকে উপজেলা পরিষদে পাঠিয়েছেন তা বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম মাহবুবুল আলম সোহাগ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে স্থানীয় সকল নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবো। কারন, কোন এলাকার শিক্ষার উন্নয়নের উপরেই ওই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে। ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিকদের সম্মানে উপজেলায় কেন্দ্রীয় ভাবে স্থায়ী পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবো। সুস্থতাই সকল সুখের মূল, এ বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা দান ব্যবস্থায় জনগনের চহিদা মোতাবেক গুরুত্ব বৃদ্ধিতে সকলের পরামর্শ নিয়ে কাজ করব। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের কান্ডারী। তারাই সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহন করে দেশকে নেতৃত্ব দিবে। তাদের হাত ধরেই দেশ জাতি সামনের দিকে এগিয়ে চলবে। আমরা হবো গর্বিত বাঙালি। তাই তরুণদেরকে মাদক ও জুয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে রক্ষা করতে নকলাতে মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সাধারণ শিক্ষার সাথে অতোপ্রতো ভাবে জড়িত। তাই ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য সতন্ত্র একাডেমি স্থাপন করা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যায়ামাগার বা জিমনেসিয়াম স্থাপন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনে সচেষ্ট থাকবো। নকলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষনা করা হলেও গোপনে গোপনে বাল্য বিবাহ হচ্ছে বা হয় বলে জানা যায়। তাই বাল্য বিবাহ বন্ধ করা ও যৌতুক প্রথা বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। তাছাড়া ইভটিজিং বন্ধে আপোষহীন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। তিনি আরো বলেন, জনসম্পদ আগুনে পোড়া থেকে রক্ষা করতে নতুন করে ফায়ার সার্ভিস ভবন নির্মানে বা পুরাতন ভবনকে সংস্কার করে ফায়ার সার্ভিস চালু করতে কার্যকরী ভূমিকা সময়ের দাবী। উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প গুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় সমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে আমার কাজ। দুর্নিতী প্রতিরোধে থকবো আপোষহীন। আমি যেহেতু দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত নই, সেহেতু কোন প্রকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সর্বোপরি মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, শিক্ষা, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থান) সমূহের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা হবে। মৌলিক চাহিদা পূরণ সংক্রান্ত কোন কারনে যেন সরকারের বিন্দুমাত্র সুনাম ক্ষুন্ন না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়া পরিবহণ সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে পরিবহণ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এবং জনস্বার্থে প্রাপ্যতা অনুযায়ী কৃষি সেবা, সমাজসেবা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, বিদ্যুৎ সেবা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করাসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে যখন যেখানে যা যা করা দরকার বলে মনে করা হবে, সবকিছু সঠিক ভাবে বাস্তবায়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে তিনি বদ্ধ পরিকর বলে সকলকে জানান। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের সবার প্রিয় নকলাকে সবার আগে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমি সচেষ্ট থাকবো। এর জন্য সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনার পাশাপাশি দোয়া কামনা করেছেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে উপজেলার সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হবে বলে সাধারণ জনগনের বিশ্বাস।

এসময় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীগন, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগনসহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিগন, বিভিন্ন পেশাশ্রেনীর শুভাকাঙ্খিজন ও স্থানীয় সাধারণ জনগন উপস্থিত ছিলেন।

এর পরের দিন বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান আবু হামযা কনক নিজের দায়িত্বভার গ্রহন করেন। এসময় তার বাবাসহ অগণিত শুভাকাঙ্খি উপস্থিত ছিলেন। তিনিও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম মাহবুবুল আলম সোহাগ’র মতোকরে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সবার প্রিয় নকলাকে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকবো। এর জন্য তিনিও সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনার পাশাপাশি দোয়া কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এ.কে.এম মাহবুবুল আলম সোহাগ দোয়াত-কলম প্রতীকে ২০ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী মোঃ মোকশেদুল হক শিবলু, কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ২১৩ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা ছাত্র লীগের আহবায়ক আবু হামযা কনক চশমা প্রতীকে ৩১ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও নকলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সরকার বাবু পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪২ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লাকী আক্তার, প্রজাপতি প্রতীকে ৬১ হাজার ২৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী উপজেলা পরিষদের সদ্যসাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন, হাঁস প্রতীকে ৮ হাজার ১৩৪ ভোট পেয়েছেন।


শেরপুর, নকলা