ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ই মে ২০২৬, ৩০শে বৈশাখ ১৪৩৩


খুন বা অর্থ পাচার মামলার তদন্তে নগণ্য বরাদ্দ, ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতিই দুর্নীতির মূলে: হাসনাত আবদুল্লাহ


প্রকাশিত:
১২ মে ২০২৬ ১২:২৫

পুলিশ বাহিনীকে ‘ম্যানেজ’ করে চলার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি এবং প্রয়োজনীয় বাজেটের অভাবই মূলত এই বিভাগে দুর্নীতির জন্ম দেয় বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ সোমবার (১১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, পুলিশের দুর্নীতির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তবতাবিবর্জিত বাজেট বরাদ্দ অনেকাংশে দায়ী। তিনি জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি এই ‘ম্যানেজ’ করার বাধ্যবাধকতা দূর করে পুলিশে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পোস্টে তিনি চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য তুলে ধরে জানান, গুরুতর মামলার তদন্তে সরকারি বরাদ্দ বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। হাসনাত আবদুল্লাহর তথ্যমতে, একটি খুন বা ডাকাতির মতো বড় মামলার তদন্ত শেষ করতে একজন কর্মকর্তাকে মাত্র ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বছরের পর বছর চলা এসব মামলার ব্যয় এই সামান্য টাকায় মেটানো অসম্ভব।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, হাজার হাজার কোটি টাকার ‘মানি লন্ডারিং’ বা অর্থ পাচার মামলার তদন্তে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ৩ হাজার টাকা। এই আর্থিক টানাপোড়েনই মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত উপায়ে অর্থ জোগাড় করতে বা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করে বলে তিনি মনে করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "একজন তদন্ত কর্মকর্তা কেন নিজের পকেট থেকে সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন?"

পুলিশের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অন্যান্য সরকারি চাকরিতে সাপ্তাহিক ছুটি ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টা থাকলেও পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা টানা দায়িত্ব পালন করেন। তাদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই।

তিনি জানান, সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইম দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দ্রুত এই আশ্বাসের বাস্তবায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সদস্যদের জন্য মানসম্মত খাবার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের মৌলিক অধিকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনগণের আস্থা ফেরাতে পুলিশকে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের আইনবহির্ভূত চাপ প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, "পুলিশকে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। আইনবহির্ভূত বা অন্যায় নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সাহস তাদের অর্জন করতে হবে।"

তিনি স্বীকার করেন, অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরাও অজান্তেই এই অসম সংস্কৃতির অংশ হয়ে যান। তবে পুলিশকে অবশ্যই আইনের ভেতরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং বেআইনি আদেশ প্রত্যাখ্যানের কারণে কোনো সদস্য যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন ও পদোন্নতির ওপর জোর দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ সবশেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, "সংসদ ও সরকার যেভাবে পুলিশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, পুলিশ বাহিনী নিজেও কি সেই স্বাধীনতা অর্জনে মানসিকভাবে প্রস্তুত?"

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নতির জন্য পুলিশ বাহিনীর এই অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।