ঢাকা রবিবার, ১৭ই মে ২০২৬, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


নিরাপদ নৌযাত্রায় কঠোর পদক্ষেপ

ট্রলার থেকে লঞ্চে ওঠা নিষিদ্ধ, নামছে নৌপুলিশ-কোস্টগার্ড


প্রকাশিত:
১৬ মে ২০২৬ ১৩:৪৬

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এবার নদীপথে চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে নৌকা কিংবা ট্রলার থেকে সরাসরি যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের যাত্রা (ভয়েজ) তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

গত ১৮ মার্চ সদরঘাটে অবৈধভাবে ট্রলার থেকে যাত্রী তোলার সময় দুই লঞ্চের চাপে পিষ্ট হয়ে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "নদীপথে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর সহ্য করা হবে না। যাত্রী নিরাপত্তা রক্ষায় এবার কোনো আপস নেই।"

মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্দেশনাসমূহ:
- কেবলমাত্র বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত টার্মিনাল পন্টুন ব্যবহার করে যাত্রী ওঠানামা করতে হবে। লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার ভেড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- সদরঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাটগুলোতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবে। সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে।
- ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত (ঈদের আগে ৫ দিন ও পরে ৫ দিন) সব ধরনের বাল্কহেড চলাচল এবং বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
- রাতে স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দিনে চলাচলের সময় চালক ও যাত্রী সবার জন্য লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক। সদরঘাট এলাকায় ডিঙি নৌকা চলাচল ও মাছ ধরার জাল পাতাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নৌপথের ওপর চাপ কমাতে এবার রাজধানীর বসিলা ব্রিজ এবং পূর্বাচলের শিমুলিয়া ঘাট থেকে নতুন লঞ্চ সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সদরঘাট টার্মিনালকে হকার ও ক্যানভাসারমুক্ত রাখতে আনসার ও কমিউনিটি পুলিশের সমন্বয়ে আলাদা রোস্টার ডিউটি চালু করা হবে।

প্রতিটি লঞ্চের ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাদে যাত্রী ওঠানো বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি লঞ্চে অন্তত চারজন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের ঈদযাত্রা আরামদায়ক ও নিরাপদ করা। আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশনা মেনে এবং যথাযথ সুশৃঙ্খল উপায়ে লঞ্চ পরিচালনা করতে হবে। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।"

সদরঘাট টার্মিনালের বিপরীত দিকে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকেও যাতে কোনো ট্রলার লঞ্চের সঙ্গে ভিড়তে না পারে, সেজন্য নৌপুলিশ ও জেলা পুলিশকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।