টিকাদানে বড় সাফল্য: হটস্পট ৩০ উপজেলায় হামের সংক্রমণ কমে প্রায় শূন্যের কোঠায়
সরকারের দ্রুত ও কার্যকর টিকাদান কর্মসূচির ইতিবাচক সুফল পেতে শুরু করেছে দেশ। হটস্পট (সংক্রমণপ্রবণ) হিসেবে চিহ্নিত ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এসব উপজেলার বেশির ভাগেই বর্তমানে প্রতিদিনের নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দুই অঙ্কের নিচে নেমে এসেছে।
হামের বিস্তার রোধে গত ৫ এপ্রিল এসব হটস্পট এলাকায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় এই বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ লক্ষণীয় মাত্রায় কমে গেছে।
হাম পরিস্থিতি ও টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "গত ৫ এপ্রিল হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। বর্তমানে ওই এলাকাগুলোতে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নেই বললেই চলে।" বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এক প্রতিবেদন সূত্রে তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, শুধু হটস্পটগুলোতেই নয়, বরং সারা দেশেই হাম পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করে বলেন, "টিকার কার্যকারিতা প্রকাশ পেতে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হটস্পট ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে। বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে এসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করে, যা টিকাদানের সফলতার একটি স্পষ্ট প্রমাণ।" তিনি আরও জানান, দেশের ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকাতেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
হামে শিশুমৃত্যুর হার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশে বর্তমানে হামে শিশু মৃত্যুর হার সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে তিনি জানান, এই টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। কারণ, টিকা নেওয়ার পর মানবশরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লেগে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টায় হামের মতো সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
