ঢাকা সোমবার, ১৮ই মে ২০২৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ঢাকায় আসছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী: গুরুত্ব পাবে শ্রমবাজার ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা


প্রকাশিত:
১৭ মে ২০২৬ ১৮:২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দুই দিনের সফরে আজ রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী। আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্যে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। নৈশভোজের পাশাপাশি দুই নেতার মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ ও কাতারের সামগ্রিক সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকটময় পরিস্থিতিতে কাতারের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতা আগামীকাল সোমবার (১৮ মে)। দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের মন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে কাতারে বাংলাদেশি কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক শ্রমবাজার কিছুটা টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর হারে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে কর্মী পাঠানোর হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে ১৪ হাজার ৫৩২ জন কর্মী কাতারে গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন মাত্র ৪ হাজার ৭২৪ জন।

বর্তমানে কাতারে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন। চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)-এর প্রতিবেদনেও উপসাগরীয় শ্রমবাজারের অনিশ্চয়তা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রবাসীদের ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ দিনগুলোতে তাদের চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির কাতার সফরকালে দেশটির শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় এবারের সফরটি শ্রমবাজারের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করছে ঢাকা।