ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ই মে ২০২৬, ৩০শে বৈশাখ ১৪৩৩


সংসারের স্বপ্ন ভেঙে লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার দুই যুবক


প্রকাশিত:
১২ মে ২০২৬ ১২:৫৫

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। জীবিকার সন্ধানে কয়েক মাস আগে বিদেশে পাড়ি জমানো এই দুই যুবকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের পরিবার ও এলাকায়। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দুই বাড়ির পরিবেশ।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে লেবাননের নাবাতিয়ের যেব্দিন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম।

বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, নিহত শফিকুল ইসলাম মাত্র আড়াই মাস আগে জীবিকার তাগিদে লেবাননে যান। বিদেশ যাওয়ার জন্য তিনি সমিতি থেকে কিস্তিতে ঋণ নেন এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও টাকা ধার করেন। পরিবারের আশা ছিল, বিদেশে গিয়ে সংসারের অভাব দূর করবেন, ঋণ শোধ করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তার মৃত্যু হলো।

শফিকুল ইসলামের পরিবার জানায়, তার দুই ছোট মেয়ে রয়েছে। বাবার মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে বাড়িতে চলছে হৃদয়বিদারক আহাজারি। স্ত্রী বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছেন।

অন্যদিকে আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামেও চলছে শোকের মাতম। নিহত নাহিদুল ইসলাম পরিবারের ঋণ পরিশোধ এবং সংসারের হাল ধরার আশায় একই সময়ে লেবাননে পাড়ি জমান। তার মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, নীরবে কাঁদছেন বাবা।

নিহত দুই পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তারা বলছেন, শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে চান।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্নব দত্ত বলেন, নিহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। মরদেহ দেশে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এভাবে দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুতে সাতক্ষীরাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা বলছেন, পরিবারের সুখের আশায় বিদেশে যাওয়া মানুষগুলো যেন যুদ্ধ আর সহিংসতার বলি না হন।