লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আগেই জানান দেয় ত্বক: অবহেলা করবেন না এই ৪ লক্ষণ
লিভার বা যকৃৎ মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া থেকে শুরু করে হজমে সহায়তা করা—সবই করে এই লিভার। তবে বর্তমান সময়ের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে লিভারের নানাবিধ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। ফ্যাটি লিভার কিংবা লিভার সিরোসিসের মতো রোগ সময়মতো চিকিৎসা না করালে লিভার সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারে কোনো সমস্যা তৈরি হলে শরীর আগেভাগেই কিছু সংকেত দেয়। বিশেষ করে ত্বকের মাধ্যমে লিভার তার অসুস্থতার জানান দেয়। এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব। নিচে লিভারের সমস্যার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো:
জন্ডিস বা ত্বক-চোখ হলুদ হওয়া
লিভারের সমস্যার সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো জন্ডিস। লিভার যখন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, তখন রক্তে ‘বিলিরুবিন’ নামক এক ধরনের পদার্থের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে ত্বকের রঙ এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যেতে শুরু করে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ত্বকে অবিরত চুলকানি ও জ্বালাপোড়া
লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ জমা হতে শুরু করে। পাশাপাশি লিভার থেকে পিত্তরসের স্বাভাবিক নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব সরাসরি ত্বকের ওপর পড়ে। এর ফলে ত্বকে দীর্ঘমেয়াদী চুলকানি বা অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। কোনো চর্মরোগ ছাড়াই যদি এমন চুলকানি হয়, তবে তা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি বা ফোঁড়া
লিভার দুর্বল হতে শুরু করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। এর ফলে ত্বকে ছোট ছোট লালচে ফুসকুড়ি, ফোঁড়া বা ব্রণের মতো দানা দেখা দিতে পারে। সাধারণ কোনো মলম বা ওষুধে যদি এসব ফুসকুড়ি না সারে, তবে বুঝতে হবে শরীরের ভেতরে লিভারের অবস্থা ভালো নেই।
চোখ ও মুখ ফুলে যাওয়া
লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বের হতে পারে না, যা টিস্যুর ভেতরে জমা হতে থাকে। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখমণ্ডল এবং চোখের চারপাশ ফোলা লাগতে পারে। অনেকে একে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করেন, কিন্তু এটি লিভার অকার্যকর হওয়ার একটি বড় সংকেত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবার ত্যাগ করা, প্রচুর পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চা লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে ত্বকের ওপরের এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে লিভারের রোগ ধরা পড়লে তা নিরাময় করা অনেক সহজ হয়।
