ঢাকা সোমবার, ১১ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


চ্যানেল ওয়ানের প্রতিবেদনের কড়া প্রতিবাদ

‘ধান্দাবাজদের লালসা মেটাইনি বলেই এই জঘন্য মিথ্যাচার’, দাবি যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদের


প্রকাশিত:
১১ মে ২০২৬ ১৪:০৩

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং ঢাকার সাবেক জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ। ‘৪০ কোটির বন নিজের নামে, সরকারি কর্মকর্তারাই নাড়েন কলকাঠি’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বন বিভাগের জমি ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ‘জঘন্য মিথ্যাচার ও অসত্য’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার এবং দায়ী প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গত ২ মে চ্যানেল ওয়ানে প্রতিবেদনটি সম্প্রচারিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ তাঁর বিবৃতিতে দাবি করেন, প্রতিবেদনে উল্লিখিত জমিটি কখনোই সংরক্ষিত বনভূমি ছিল না। এমনকি বন বিভাগের নামে এর কোনো রেকর্ড বা মালিকানাও কোনোকালে ছিল না। সিএস (CS) থেকে শুরু করে সর্বশেষ বিআরএস (BRS) রেকর্ড পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি হিসেবেই লিপিবদ্ধ। সিএস রেকর্ডে জমিটি পুকুর, এসএ-তে টেক এবং আরএস রেকর্ডে চালা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

বন আইনের ৪ ধারার নোটিফিকেশন প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে এই কর্মকর্তা জানান, নোটিফিকেশনে সংশ্লিষ্ট সিএস ৮৪৩ দাগের উল্লেখ দেখিয়ে প্রতিবেদনে মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে। তিনি নথিপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ওই নোটিফিকেশনে মোট ২১টি দাগের বিপরীতে ১৩৩.৯৩ একর ভূমির উল্লেখ রয়েছে, অথচ এই দাগগুলোর মোট জমির পরিমাণ ১৮৪.৬৩ একর। অর্থাৎ, ৫০.৭০ একর জমি ওই নোটিফিকেশনের বাইরে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সিএস ৮৪৩ দাগের মোট ২০.৩২ একর জমির মধ্যে ৩.৪৯ একর জমি বন বিভাগের নোটিফিকেশনবহির্ভূত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি। এর মধ্যেই জাহেদুর রব চৌধুরী (পরবর্তীতে কাকলী চৌধুরী) নামের ব্যক্তির জমিও রয়েছে, যা সেটেলমেন্ট আপিল মামলার রায়ে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। তাছাড়া কোনো সম্পত্তিতে ৪ বা ৬ ধারার নোটিশ দিলেই তা বন বিভাগের হয়ে যায় না; এর জন্য অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ২০ ধারার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হতে হয়।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের সাংবাদিকতার ধরন নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদককে ব্যক্তিমালিকানার সকল খতিয়ান ও আদালতের রায়সহ নথিপত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। আমার বক্তব্য হিসেবে দেড় মিনিটের একটি ভয়েস মেসেজও দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার দেওয়া কোনো তথ্য বা বক্তব্য প্রতিবেদনে ব্যবহার করেননি। উল্টো ফোনালাপের খণ্ডিত অংশ (কাট-পিস) প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন।’

এমন অসত্য প্রতিবেদন প্রচারের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে ঢাকার সাবেক এই জেলা প্রশাসক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তিনি ঢাকার ডিসি থাকাকালীন এই জমির মালিকপক্ষ তাঁর কাছে এসে আশুলিয়া ভূমি অফিসের এক কানুনগোর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা এবং বন বিভাগের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবির তথ্যপ্রমাণ হাজির করেছিলেন। প্রমাণ দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই কানুনগোকে বদলি করে দেন।

তানভীর আহমেদ বলেন, ‘এত দিন পর কার প্ররোচনায় এই অসত্য প্রতিবেদন করে আমার ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের চেষ্টা চলছে, তা বোধগম্য নয়। কোনো ধান্দাবাজ কর্মচারীর লালসা আমি অফিসপ্রধান থাকাবস্থায় বাস্তবায়ন হতে দিতে পারি না।’

সবশেষে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সরকারের এই যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, এই জমি সংরক্ষিত বনভূমি নয়, এটি শতভাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি—তা নিশ্চিত হয়েই আমি শ্রেণি পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছিলাম।’ তিনি প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।