ঢাকা সোমবার, ১১ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


শান্তি প্রস্তাবে ইরানের জবাব ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’: ফের কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প


প্রকাশিত:
১১ মে ২০২৬ ১৪:২৬

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পাঠানো জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকে আসা উত্তরকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, “আমার এটা পছন্দ হয়নি— (ইরানের এই জবাব) সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে একটি চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। ওই প্রস্তাবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ৩০ দিনের একটি আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার কথা ছিল।

রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা লিখিত জবাব পাঠায় তেহরান। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটনের মূল দাবিগুলো এড়িয়ে গেছে ইরান। বিশেষ করে পরমাণু প্রকল্পের চেয়ে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের মতো বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে তারা। এছাড়া যুদ্ধের কারণে হওয়া অবকাঠামোগত ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারের দাবিও জানিয়েছে দেশটি।

ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তির মূলে রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা সামান্য প্রক্রিয়াকরণেই পারমাণবিক বোমা তৈরির উপযোগী (৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতা) করা সম্ভব। ট্রাম্পের দাবি ছিল, এই মজুত হয় ধ্বংস করতে হবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

তবে ইরান তাদের জবাবে বলেছে, তারা ইউরেনিয়ামের কিছু অংশের বিশুদ্ধতা কমিয়ে দেশে রাখবে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নেবে। তেহরানের এই প্রস্তাবকেই মূলত ‘অগ্রহণযোগ্য’ মনে করছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কঠোর বার্তার পর ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “ইরান কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না। আমরা অবশ্যই দৃঢ়ভাবে আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করব।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে পাকিস্তান ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।