বিকেলে কেনা শখের বাইক কেড়ে নিল প্রাণ: বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্র শুভর
বিকেলে শখ করে কেনা হয়েছিল স্বপ্নের মোটরসাইকেল। সেই নতুন বাইকে চড়ে বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল ১৪ বছরের কিশোর শুভ। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই মোটরসাইকেলই তার জীবনের শেষ বাহন হয়ে দাঁড়াল। ময়মনসিংহের নান্দাইলে মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে স্কুলছাত্র মো. শুভ মিয়া।
গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কানুরামপুর-ত্রিশাল সড়কের চরশ্রীরামপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শুভ মিয়া নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কমলপুর গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক পরশ (১৫) গুরুতর আহত হয়েছে। পরশ এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং কেন্দুয়ার সাগলি এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে পরশ ও শুভ নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ‘হাবিব বাইক কেয়ার’ নামের একটি দোকানে মোটরসাইকেল কিনতে যায়। সেখান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকায় একটি পুরোনো মোটরসাইকেল কেনে পরশ। কেনা শেষে সন্ধ্যায় তারা দুজনেই নতুন বাইকটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
পথিমধ্যে কানুরামপুর-ত্রিশাল সড়কের চরশ্রীরামপুর এলাকায় পৌঁছালে সড়কের ওপর শুকানোর জন্য রাখা বোরো ধানের খড়ের আঁটিতে মোটরসাইকেলটি পিছলে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক পরশ ও পেছনে থাকা শুভ ছিটকে সড়কের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এক পথচারী ও অটোরিকশাচালক তাদের উদ্ধার করে দ্রুত নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে শুভর মৃত্যু হয়। আহত পরশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। সড়কে খড় রাখার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বিকেলে হাসিমুখে বাইক কিনতে যাওয়া কিশোর শুভর এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
