ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১৪ই মে ২০২৬, ৩১শে বৈশাখ ১৪৩৩


'নিশ্চিহ্ন' হয়নি ইরানের সামরিক শক্তি: ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সচল রেখেছে তেহরান


প্রকাশিত:
১৩ মে ২০২৬ ১৪:৪২

ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করে আসছিলেন, তাকে নাকচ করে দিয়েছে স্বয়ং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এক গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, তেহরান তার অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও লঞ্চারের ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের সামরিক শক্তির একটি বড় অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে তৈরি করা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের অধিকাংশ ভূগর্ভস্থ স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে কার্যকর প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী ঘোষণার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে অবস্থিত ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই এখন তেহরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে ওই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন রণতরি এবং জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে। গোয়েন্দা তথ্যমতে, ইরান এসব ঘাঁটিতে মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে পারে, যা সেগুলোকে ধ্বংস করা আরও কঠিন করে তুলেছে। বর্তমানে মাত্র ৩টি ঘাঁটি অচল অবস্থায় রয়েছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার এবং ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বর্তমানে সচল ও অক্ষত। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্বল্প পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া দেশটির বিশাল ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের প্রায় ৯০ শতাংশই বর্তমানে আংশিক বা পূর্ণমাত্রায় ব্যবহারের উপযোগী।

এই গোয়েন্দা তথ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সাম্প্রতিক আশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘নিশ্চিহ্ন’ এবং তারা আর কোনো হুমকি নয়। তবে এই গোপন প্রতিবেদন ফাঁস হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এবং পেন্টাগন মুখপাত্র জোয়েল ভালদেজ এটিকে নাকচ করে দিয়েছেন। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এই তথ্য প্রকাশ হওয়াকে ‘ভার্চুয়াল দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, এক মাসব্যাপী চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যদি ভেঙে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারে। ইরানকে মোকাবিলা করতে গিয়ে মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যেই তাদের টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদে টান ফেলেছে। লকহিড মার্টিনের মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, মার্কিন চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণকে অতিরঞ্জিত করে দেখেছে এবং ইরানের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতাকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করেছে। তেহরান তাদের সামরিক কাঠামোর বড় অংশকে ভূগর্ভস্থ এবং গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় মার্কিন বিমান হামলাগুলো প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস