ঢাকা রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা: মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


প্রকাশিত:
৬ জুন ২০২৬ ১৩:০৫

পারস্য উপসাগরে ইরানের রাডার স্টেশনে মার্কিন বাহিনীর হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিল তেহরান। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে ফের বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) ভোরে আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) পৃথকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, “শনিবার ভোরে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে শত্রুদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে অ্যারোস্পেস ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।”

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকোম জানিয়েছে, শনিবার ভোরের দিকে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে মোট সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। মার্কিন সেন্টকোমের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।

মূলত গত শুক্রবার (৫ জুন) মধ্যরাতের দিকে হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় চারটি ইরানি ‘ওয়ান ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। এরপর সম্ভাব্য পরবর্তী হামলা প্রতিরোধ করার অজুহাতে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে বোমাবর্ষণ করে সেন্টকোম। এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান তাদের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে কাগজে-কলমে সেই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও কার্যত তা এখন চূড়ান্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। গত ২৮ মে থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে প্রায় নিয়মিত বিরতিতে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা কেবল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: এএফপি, আলজাজিরা