ঢাকা শুক্রবার, ১৫ই মে ২০২৬, ২রা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


রাজধানীর বাজারে মুরগি ও ডিমের দামে ফের অস্থিরতা: ব্রয়লার ২০০, ডিম ১৫০


প্রকাশিত:
১৫ মে ২০২৬ ১২:২৫

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ফের অস্থির হয়ে উঠেছে মুরগি ও ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে অন্তত ২৫ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় ঠেকেছে। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডিমের দামও; গত সপ্তাহে ১২০ টাকা ডজনে বিক্রি হওয়া ডিম আজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ছুটির দিনে বাজারের এমন উর্ধ্বমুখী চিত্রে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

আজ শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হলসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি এখন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেই এর দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। শুধু ব্রয়লার নয়, সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশি মুরগির দাম। বাজারে দেশি মুরগির সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতাদের প্রতি কেজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত মাসে সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে ছিল। কিন্তু এক মাসের ব্যবধানে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, "রোজার ঈদের পর দাম কিছুটা কমেছিল। আমরা ১৭০-১৭৫ টাকায় ব্রয়লার বেচেছি। কিন্তু এই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। সোনালীর দামও কেজিতে ২০ টাকার মতো বেড়েছে। আর দেশি মুরগি তো পাওয়াই যাচ্ছে না।"

বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, "আজ শুক্রবার, বিয়ের অনুষ্ঠানের চাপ থাকে বলে চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ কম। মুরগির দাম প্রতিদিন পরিবর্তন হয়, তবে ছুটির দিনে চাহিদা বেশি থাকায় দাম একটু চড়া থাকে।"

এদিকে মুরগির বাজারের উত্তাপ ছড়িয়েছে ডিমের বাজারেও। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা ডজনে পাওয়া ডিম আজ ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আকার ও প্রকারভেদে দামে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। ডিম বিক্রেতা বজলুর রশিদ জানান, বড় সাইজের ডিম ১৬০ টাকা, সাধারণ ব্রাউন কালারের ডিম ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী কামরুল হাসান বলেন, "প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। ব্রয়লার মুরগি আর ডিম ছিল মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের প্রোটিনের প্রধান উৎস। এখন যদি এক ডজন ডিম ১৫০ টাকা আর ব্রয়লার ২০০ টাকা হয়, তবে আমাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।"

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার না করলে সিন্ডিকেটের প্রভাবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।