ঢাকা রবিবার, ১০ই মে ২০২৬, ২৮শে বৈশাখ ১৪৩৩


চোখে গুলি লেগে মস্তিষ্কে বিদ্ধ, আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ১১ বছরের শিশু রেশমি


প্রকাশিত:
১০ মে ২০২৬ ১৫:০৩

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গোলাগুলির কবলে পড়ে গুরুতর আহত ১১ বছরের শিশু রেশমি আক্তার এখন মৃত্যুর মুখোমুখি। একটি গুলি তার চোখের নিচ দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কে আটকে আছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছে। চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী এই শিশুটির এমন পরিণতিতে পুরো রৌফাবাদ কলোনি এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে বায়েজিদ বোস্তামির রৌফাবাদ কলোনিতে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, রেশমির মা তাকে পাশের দোকানে কিছু জিনিস কিনতে পাঠিয়েছিলেন। ঘর থেকে বেরিয়ে দোকানে যাওয়ার পথেই হঠাৎ কলোনির সরু গলিতে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রাণভয়ে মানুষ ছুটোছুটি শুরু করলে শিশু রেশমি ঘাতক গুলির মুখে পড়ে যায়। মুহূর্তেই একটি গুলি তার চোখের নিচ দিয়ে ঢুকে মাথার ভেতরে বিদ্ধ হয় এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

একই ঘটনায় হাসান ওরফে রাজু (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন। পুলিশ জানায়, নিহত রাজু রাউজান এলাকায় একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এবং গ্রেপ্তারি এড়াতে বায়েজিদে বোনের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন। তাকে লক্ষ্য করেই সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রেশমি রৌফাবাদ কলোনির প্রতিবন্ধী সবজি বিক্রেতা রিয়াজ আহমেদ প্রকাশ গুড্ডুর পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। রিয়াজ আহমেদ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি কলোনির মুখে শাকসবজি বিক্রি করে কোনোভাবে সংসার চালাই। আমার আদরের ছোট মেয়েটা লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিল। তার মা তাকে দোকানে পাঠিয়েছিল, কিন্তু সে ফিরল গুলিবিদ্ধ হয়ে। ডাক্তার বলছে অবস্থা খুব খারাপ, গুলি মাথার ভেতরে আটকে আছে। আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

রেশমির বড় ভাই ফয়সাল আহমেদ জানান, চমেকে আইসিইউ বেড খালি না থাকায় প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে একদিনের বিল আসে ৪৫ হাজার টাকা। সেই সামর্থ্য না থাকায় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ২৫ হাজার টাকা জোগাড় করে এবং বাকিটা ধারদেনা করে পরে তাকে আবারও চমেকে ফিরিয়ে আনা হয়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গুলিটি তার মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। শনিবার সকালে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ বোর্ড বসে রেশমির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম শুক্রবার শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি রেশমির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “একজন নিষ্পাপ শিশুর এভাবে সন্ত্রাসের শিকার হওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই ঘটনার পেছনে দায়ী অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে, বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রৌফাবাদ কলোনির বাসিন্দারা এই নজিরবিহীন হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।