ঢাকা রবিবার, ১০ই মে ২০২৬, ২৮শে বৈশাখ ১৪৩৩


​৩৬ ডিগ্রিতে পুড়ছে পর্যটন নগরী: ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস, মাসশেষে লঘুচাপের আভাস


প্রকাশিত:
১০ মে ২০২৬ ১৫:১৩

​তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারের জনজীবন। আজ জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি হলেও বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতার কারণে শরীর পুড়ছে আরও বেশি উত্তাপে।

​সকাল থেকেই প্রখর রোদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চারপাশ। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কমে যায়। শ্রমজীবী মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুরদের জন্য এই গরম অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৬৫ শতাংশ হওয়ায় শরীরে প্রচুর ঘাম হচ্ছে, যা অস্বস্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

​কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, ভৌগোলিক কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে আর্দ্রতা বেশি থাকে। তিনি বলেন, ​"আজ জেলায় এই মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় সাধারণ তাপমাত্রার চেয়েও কয়েক ডিগ্রি বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।"

​তিনি আরও জানান যে, আবহাওয়া পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বরং মে মাসের শেষার্ধে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

​শহরের কালুর দোকান এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক রহমত উল্লাহর সাথে। তিনি কপালে জমে থাকা ঘাম মুছতে মুছতে বলেন, ​"গরমে রিকশা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রোদের ঝাজ তো আছেই, সাথে ভ্যাপসা গরমে শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। যাত্রীও খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না।"

​অন্যদিকে, সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের উপস্থিতিও অন্যান্য দিনের তুলনায় কম দেখা গেছে। যারা এসেছেন, তাদের বেশিরভাগই বিকেলের পর সৈকতে নামছেন।

​তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা এড়াতে চিকিৎসকরা অতিরিক্ত পানি পান করার এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।​চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ বৃষ্টির দেখা না মিললে গরমের এই তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।