ঢাকা শনিবার, ১৩ই জুন ২০২৬, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


খুলনায় যৌথ অভিযানে পলাশ গ্রুপের সহযোগীসহ ৩৯ জন গ্রেপ্তার


প্রকাশিত:
৭ জুন ২০২৬ ১৬:৩৮

খুলনা মহানগরীতে অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে পলাশ গ্রুপের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থসহ ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাদক কারবারি, চুরি ও বিভিন্ন মামলার আসামিরাও রয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, খুলনা মহানগর এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কমিশনারের সার্বিক নির্দেশনায় মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭ জুন সকাল ১০টা পর্যন্ত কেএমপি উত্তর, দক্ষিণ ও গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বয়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে খুলনা থানার ৯ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ৫ জন, লবণচরা থানার ১ জন, হরিণটানা থানার ৬ জন, খালিশপুর থানার ৪ জন, দৌলতপুর থানার ২ জন, আড়ংঘাটা থানার ৭ জন এবং খানজাহান আলী থানার ৫ জন রয়েছে।

পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থ (৩০) খুলনা সদর থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তিনি পলাশ গ্রুপের সহযোগী এবং চিৎড়ি বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে।

অভিযানে আরও ১০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পাশাপাশি একজন চোরকেও আটক করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

কেএমপি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানের ফলে অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলাসহ নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, মহানগরবাসীর জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেছে পুলিশ।