ঢাকা রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


৯ মাসে বাজেট বাস্তবায়ন ৫২ শতাংশ, ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় প্রায় লাখ কোটি টাকা


প্রকাশিত:
৬ জুন ২০২৬ ১৮:১৮

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বাজেট বাস্তবায়নের হার আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও এডিপি বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। অর্থবছরের তিন-চতুর্থাংশ সময় পার হলেও মূল বাজেটের ৫২ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সময়ে সরকারের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেটের বিপরীতে ৯ মাসে মোট ব্যয় হয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে। তবে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে বড় অঙ্কের ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ৯ মাস শেষে সার্বিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।

আলোচ্য সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ৯ মাসে এনবিআর-এর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ২ লাখ ৮৩ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা, যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৫৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৫৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।

বাজেট ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে ঋণ পরিশোধে। ৯ মাসে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ সরকার মোট ৯৯ হাজার ৯০১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৮৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ১৫ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, উন্নয়ন কাজের চেয়ে সুদ পরিশোধেই সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

বাজেট বাস্তবায়নের হার বাড়লেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নে পিছিয়ে আছে সরকার। ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপির বিপরীতে ৯ মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৪ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এডিপি বাস্তবায়নের হার কমেছে।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ বাড়িয়েছে। ৯ মাসে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১৯ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। তবে আলোচ্য সময়ে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে কোনো নিট ঋণ না নিয়ে বরং ২০ হাজার ২২৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার।