চট্টগ্রামে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে পথে ফেললেন ব্যবসায়ীরা
চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরোনো সংকট আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে। চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়া এবং আড়তদারদের অনীহার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন। এতে পচন ধরে এলাকাগুলোতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে নগরীর বিবিরহাট ও আতুরার ডিপো এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শত শত গরুর চামড়া। অবহেলায় পড়ে থাকায় চামড়াগুলো নষ্ট হয়ে ময়লায় একাকার হয়ে গেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাক দিয়ে এসব চামড়া অপসারণ করা হচ্ছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা পরিকল্পিত সিন্ডিকেট করে চামড়া কেনায় নিরুৎসাহী। ফটিকছড়ি থেকে আসা ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, “বড় গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি। অথচ আড়তদাররা ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকার বেশি দাম দিতে রাজি নন। লস দিয়ে বিক্রি করার চেয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।”
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন দাবি করেন, এ বছর চট্টগ্রামে মোট ৪ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। তিনি বলেন, “মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বাজারের পরিস্থিতি না বুঝে উচ্চমূল্যের আশায় বসে ছিল, যার ফলে কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে।”
সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবু তাহের সিদ্দিকী জানান, রাস্তা থেকে বর্জ্যের পাশাপাশি পচনশীল বিপুল পরিমাণ চামড়া অপসারণ করে ডাম্পিং করা হচ্ছে। ঠিক কী পরিমাণ চামড়া ফেলা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বড় চামড়ার সর্বনিম্ন দাম ১ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ব্যবসায়ীরা তার অর্ধেকও পাচ্ছেন না।
চামড়া খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্যানারি পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব, লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের সংকট এবং আড়তদারদের নগদ অর্থের ঘাটতির কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এ অব্যবস্থাপনা দেশের অন্যতম এই শিল্প খাতকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
