ঢাকা শনিবার, ৬ই জুন ২০২৬, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ঈদের ছুটির রেশ: রাজধানীর বাজারে ক্রেতা কম, বেড়েছে মুরগির দাম


প্রকাশিত:
৫ জুন ২০২৬ ১২:৪৯

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির রেশ কাটেনি এখনো। ঈদের পর প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল বেশ কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নগরবাসীর একটি বড় অংশ এখনো ঢাকায় না ফেরায় বাজারে ভিড় নেই। তবে ক্রেতা কম থাকলেও কিছু পণ্যের দামে রয়েছে ভিন্ন চিত্র—সবজির দর অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে মুরগির দাম।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সকাল থেকেই বাজারে বিক্রেতারা দোকান সাজিয়ে বসলেও ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল বেশ কম। বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে মানুষ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে রাখায় এখন কেনাকাটার চাপ কম। এছাড়া অনেক পরিবার এখনো ঈদ ছুটি কাটিয়ে রাজধানীতে ফেরেনি। ফলে স্বাভাবিক শুক্রবারের তুলনায় আজ বাজারে ক্রেতাদের বেশ অভাব লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের পরপরই ব্রয়লার মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, যা ঈদের একদিন আগেও ছিল ১৫০ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। তবে এদিন গরু ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ থাকায় এগুলোর দাম জানা সম্ভব হয়নি।

মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। প্রতি ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায়। অর্থাৎ, ডিমের ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে। প্রতি কেজি কচুমুখী ৮০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং বেগুন ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস চাল কুমড়া ৫০ টাকা এবং লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের বাজারেও বেচাকেনা চলছে ঢিমেতালে। প্রতি কেজি পাঙাস ও তেলাপিয়া মাছ ২০০ টাকায়, চাষের কই ২২০ টাকায়, রুই ৩২০ টাকায়, শিং মাছ ৩২০ টাকায় এবং মৃগেল মাছ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতা সাদাত সরকার বলেন, ‘ঈদ যেতে না যেতেই মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। এটি হতাশাজনক। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে, যা আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য কিছুটা স্বস্তির।’

মাছ বিক্রেতা আলমগীর বলেন, ‘দুই দিন হলো দোকান খুলেছি। টুকটাক বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু ঈদের আগের মতো সেই ভিড় নেই। মানুষ এখন প্রয়োজনের বাইরে খুব একটা কেনাকাটা করছে না।’

আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে নগরবাসী পুরোপুরি ঢাকায় ফিরলে বাজার আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।