গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কারবার, হাতেনাতে আটক ২৮
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও দেহব্যবসা চালিয়ে আসা একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে গুলশান-২ এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দাউদ হোসেন।
পুলিশ জানায়, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে গুলশানের অভিজাত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও সৌন্দর্যচর্চার আড়ালে স্পা সেন্টার খুলে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযানে আটক ২৮ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুরুষ ও নারী রয়েছেন। আটককৃতরা হলেন— মোর্শেদ আলম, কায়কোবাদ সরকার, রমজান ভুইয়া, মেহেদী হাসান, তারভীর আলম, মাহফুজ কামাল স্বাধীন, মনিরুল ইসলাম মুন্না, মো. হাসান, বাবুল হোসেন, মো. মোস্তফা, পরিতোষ শীল, মো. শোহান, রফিকুল ইসলাম রানা, জহিরুল ইসলাম, মো. আরিফুল ইসলাম।
এছাড়া আটক নারীদের মধ্যে রয়েছেন— খাদিজা ইসলাম শান্তা, ফাহিমা সুলতানা, রত্না আক্তার, মাহিমা আক্তার, ফারজানা আমিন, রোকসানা আক্তার, মায়া আক্তার, ফারিয়া ইসলাম, ইসরাত জাহান জয়া, রুবিনা আক্তার, তাহিয়া ইসলাম, ময়না ও মাহমুদা আক্তার।
অভিযানের বিষয়ে ওসি মো. দাউদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে, এই স্পা সেন্টারগুলোতে চিকিৎসার নামে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে এর সত্যতা মিলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাজধানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধ দমনে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে গুলশান থানা পুলিশ।
