ঢাকা সোমবার, ১১ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


খেলার মাঠ উন্মুক্ত ও অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান


প্রকাশিত:
১১ মে ২০২৬ ১৮:৫৮

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মনিরাম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১১ মে) দুপুর ১২টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় যুবসমাজ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠে গাছ রোপণ করায় দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আবির হোসেন বলেন, “আমাদের স্কুলের একমাত্র খেলার মাঠটি গাছ লাগানোর কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। আমরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারছি না, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক।”

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মোকসেদুল ইসলাম বলেন, “শুধু মাঠের সমস্যা না, আমাদের পড়াশোনার পরিবেশও ভালো না। ক্লাসরুমে অনেক ফ্যান নষ্ট, গরমে ঠিকমতো ক্লাস করা যায় না। বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে।”

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহাদাৎ হোসেন অভিযোগ করেন, ভোকেশনাল শাখায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। ল্যাপটপ থাকলেও তা ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না, ফলে শেখার সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, অনেক সময় ক্লাসে লেখার জন্য মার্কারও থাকে না, বাধ্য হয়ে নিজেদের টাকায় মার্কার কিনে ক্লাস করতে হয়।

যুবসমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, “এই মাঠটি শুধু স্কুলের নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের তরুণদের একমাত্র খেলার জায়গা। এটি বন্ধ থাকায় যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত মাঠটি উন্মুক্ত করা জরুরি।”

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে ইংরেজি ক্লাস নিয়মিত হয় না, ভোকেশনাল শাখায় উপকরণের ঘাটতি রয়েছে, টয়লেট সংকট বিদ্যমান এবং পুরোনো টিনশেড ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত সমাবেশ ও জাতীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে পালন করা হয় না বলেও তারা দাবি করেন।

কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে দ্রুত খেলার মাঠ উন্মুক্ত করা, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আন্দোলনকারীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।