ঢাকা সোমবার, ১১ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


অন্যায় করিনি, রাষ্ট্র আমার সঙ্গে অন্যায় করেছে: জামিনে মুক্তি পেয়ে ইমি


প্রকাশিত:
১১ মে ২০২৬ ১৮:৪২

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দুই মাস কারাবাসের পর মুক্তি পেয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো কেন্দ্রিক কর্মসূচিকে ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, রাজপথের লড়াই থেকে তিনি পিছিয়ে যাবেন না। সম্প্রতি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে ইমি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, তিনি কোনো অন্যায় করেননি, বরং রাষ্ট্রই তার সঙ্গে অন্যায় করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৭ মার্চ রাতে, যখন শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর সময় ইমিকে আটক করা হয়। এর আগে দুপুরে শহীদুল্লাহ হলের সামনে থেকে আসিফ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে তিনি এই কর্মসূচি দিয়েছিলেন। ইমির ভাষ্যমতে, ৭ মার্চের ভাষণ যেহেতু নিষিদ্ধ নয় এবং এটি জাতীয় গৌরবের অংশ, তাই এর অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা তিনি জরুরি মনে করেছিলেন। পরদিন ৮ মার্চ পুলিশ তাকেসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘ দুই মাস কারাভোগের পর গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি এবং ৭ মে মুক্তি লাভ করেন।

শাহবাগের কর্মসূচির সময় তাদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ইমি। তিনি দাবি করেন, ডাকসুর সাবেক কিছু নেতা এবং ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র কর্মীদের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ব্যবহৃত রিকশার ব্যাটারি ছিনতাইসহ ভাঙচুর করা হয়। তার সহযোদ্ধা মামুনকে ‘ছাত্রলীগ’ তকমা দিয়ে রক্তাক্ত করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরই মামুন ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমি বলেন, যারা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তারাই আবার তাদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম সচল করার অভিযোগে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় পুলিশের আনা অভিযোগের জবাবে ইমি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যৌক্তিক প্রতিবাদ করার জন্য তাকে যদি কোনো ট্যাগ দেওয়া হয়, তবে তিনি তা পরোয়া করেন না। তিনি আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজপথের মেয়ে’ হিসেবে সময়ের প্রয়োজনে তিনি বারবার রাজপথেই ফিরে আসবেন। কারাগারে থাকাকালীন তার বাবার অসুস্থতা ও পরিবারের উদ্বেগের কথা জানালেও ন্যায়ের লড়াইয়ে অনড় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই ছাত্রনেত্রী।