ঢাকা শনিবার, ২৩শে মে ২০২৬, ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


দাকোপে ঘের দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৫


প্রকাশিত:
২৩ মে ২০২৬ ২১:৩৪

খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোনা এলাকার ওয়াপদা ভেড়িবাঁধের বাইরে প্রায় ৪০ বিঘা জমির মাছের ঘের নিয়ে আব্দুল্লাহ ফকির গোষ্ঠীর সঙ্গে মুকুন্দ মন্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজী গোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

আব্দুল্লাহ ফকিরের ছেলে আকরাম আলী ফকির অভিযোগ করেন, গত ১৬ মে সন্ধ্যায় বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘের দখলের চেষ্টা চালায়। এতে তাদের পক্ষের ৫ জন আহত হন। আহতরা হলেন জসিম মোল্লা (৩২), হাফিজুর মোল্লা (৪০), আবু মুসা শেখ (৩১), জাফর সরদার (৩১) ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার (৫৪)। তারা দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ঘটনায় আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে গত ২১ মে দাকোপ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার পর শনিবার (২৩ মে) দুপুরে খুলনার র‌্যাব-৬ সদস্যরা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে। পরে চালনা আচাঁভূয়া বাজার এলাকায় র‌্যাবের গাড়ি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় গাড়ি ভাঙচুর করে আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলের নেতারা। উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান, চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফার হোসেন ও সদস্য সচিব আলামিন সানা বলেন, খোনার ওই জমি সরকারি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বন্দোবস্তকৃত জমি। জমি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। তারা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন বলে দাবি করেন। তবে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা।

দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল বাসার বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।