ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২১শে মে ২০২৬, ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


পল্লবীতে শিশুকন্যা হত্যার পর শোকার্ত পিতার আহাজারি

‘আমি বিচার চাই না, আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই’


প্রকাশিত:
২০ মে ২০২৬ ২১:০০


রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর তীব্র অনাস্থা ও গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। সন্তান হারানোর শোকে পাথর এই পিতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চান না, কারণ তার বিশ্বাস—এ দেশে ন্যায়বিচার পাওয়ার কোনো নজির নেই।

গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ক্ষোভ ও বেদনার স্বরে আবদুল হান্নান মোল্লা বলেন, “আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার নতুন কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর সব ধামাচাপা পড়ে যাবে।” তার এই বক্তব্য যেন বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক আর্তনাদ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মিরপুরের পল্লবীতে প্রতিবেশী দম্পতির ফ্ল্যাটে শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে শিশুটির বাসার উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। ওই সময়েই ভেতরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি সোহেল রানাকে পালাতে সুযোগ করে দিতে তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে রাখেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি প্রতিবেশীর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়েই ঘাতকরা তাকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরবর্তীতে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

একজন পিতা যখন রাষ্ট্রের আইন ও বিচার প্রক্রিয়ার ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তখন তা গোটা সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। শোকাতুর পরিবারের এই আর্তনাদ ও রাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থার বিষয়টি এখন জনমনে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।