ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২১শে মে ২০২৬, ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


শিশুর হাতে লিচু দিচ্ছেন? আগে জেনে নিন কিছু জরুরি তথ্য


প্রকাশিত:
২০ মে ২০২৬ ১৯:১০

জ্যৈষ্ঠের গরমে বাজারে এসেছে রসালো লিচু। ছোট-বড় সবারই এই ফলের প্রতি বিশেষ ঝোঁক থাকলেও, লিচুর মৌসুম এলেই অভিভাবকদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা—শিশুর গলায় লিচুর বিচি আটকে যাওয়া। প্রতি বছরই অসতর্কতার কারণে এমন করুণ মৃত্যুর খবর শোনা যায়, যা পরিবারগুলোর জন্য বয়ে আনে অপূরণীয় ক্ষতি। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য সচেতনতায় এই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

কেন লিচু শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা অনেক সময় না বুঝে আস্ত লিচু মুখে দিয়ে দেয়, যা দ্রুত শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি করে। শুধু শিশু নয়, বড়দের ক্ষেত্রেও এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই শিশুদের হাতে আস্ত লিচু তুলে দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিপদ এড়াতে অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ:
বিচি ছাড়া পরিবেশন: শিশুদের কখনোই বিচিসহ লিচু খেতে দেওয়া উচিত নয়। বড়দের উচিত খোসা ছাড়িয়ে বিচি ফেলে দিয়ে লিচুর অংশগুলো ছোট ছোট টুকরো করে শিশুকে খাওয়ানো।

সতর্কতা: খাওয়ার পর লিচুর বিচিগুলো এমনভাবে সরিয়ে ফেলতে হবে যেন শিশু খেলতে গিয়ে তা মুখে না দেয়। এছাড়া লিচু শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা জরুরি।

পরিচ্ছন্নতা: বাজার থেকে কেনা লিচু খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া গাছতলায় পড়ে থাকা লিচু না খাওয়াই ভালো, কারণ এতে নিপাহ ভাইরাসসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

গলায় বিচি আটকে গেলে প্রাথমিক করণীয়:
গলায় লিচুর বিচি আটকে গেলে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কথা বলতে পারে না, তীব্র কাশি বা বমি ভাব হতে পারে। এমনকি অনেক সময় ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া বা শিশু অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত যা করতে হবে:

ছোট শিশু হলে: তাকে উপুড় করে নিজের হাতের ওপর শুইয়ে পিঠে কয়েকবার জোরে চাপড় দিতে হবে।

বড় শিশু বা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে: পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে পেটের ওপর নির্দিষ্ট মাত্রায় চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

জরুরি চিকিৎসা: প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

চিকিৎসকরা মনে করেন, আনন্দের এই লিচুর মৌসুমে একটুখানি বাড়তি সতর্কতা আর সচেতনতা পারে একটি শিশুর প্রাণ বাঁচাতে। পরিবারের ছোট সদস্যদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অভিভাবকদের সর্বদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।