ঢাকা রবিবার, ১৭ই মে ২০২৬, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


সারাদিন চাঙা থাকতে চান? খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৫ ‘সুপারফুড’


প্রকাশিত:
১৬ মে ২০২৬ ১৭:১৩


সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কাজে মন দিতে না দিতেই কি শরীরে ক্লান্তি ভর করে? অনেকেই এই ক্লান্তি দূর করতে ঘন ঘন চা-কফি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু এসব খাবার সাময়িকভাবে শক্তি বাড়ালেও কিছুক্ষণ পরেই আবার শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম ও সতেজ থাকতে ক্যাফেইনের চেয়ে সঠিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবারের ভূমিকা বেশি।

খাদ্যতালিকায় কিছু বিশেষ পরিবর্তন আনলে শরীর একবারে সব শক্তি ব্যয় না করে ধীরে ধীরে তা নির্গত করে। এতে সারাদিন মনোযোগ ও মেজাজ দুটোই থাকে ফুরফুরে। নিচে এমন ৫টি খাবারের কথা বলা হলো যা আপনাকে সারাদিন শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করবে:

ধীর ও স্থিতিশীল শক্তির জন্য বাদাম
বাদামকে শক্তির ‘পাওয়ার হাউস’ বলা হয়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন এবং ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া রোধ করে। বাদাম সারারাত ভিজিয়ে রাখলে তা হজমে সুবিধা হয় এবং শরীর পুষ্টি সহজে গ্রহণ করতে পারে। সকালে এক মুঠো বাদাম খেলে তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও বাড়ায়।

প্রাকৃতিক শক্তির উৎস খেজুর
দ্রুত শক্তির প্রয়োজন হলে খেজুরের চেয়ে ভালো বিকল্প খুব কমই আছে। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক গ্লুকোজ শরীরের ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে। পরিশোধিত চিনির মতো এটি ক্ষতিকর নয় বরং এতে আছে আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান। খেজুরের সঙ্গে দু-একটি বাদাম মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য ঠিক থাকে।

দীর্ঘস্থায়ী শক্তির জন্য ঘি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
আমাদের অনেকের ধারণা ঘি বা চর্বি জাতীয় খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু পরিমিত ঘি বা পিনাট বাটার দীর্ঘস্থায়ী শক্তি সরবরাহের চমৎকার উৎস। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হজম হতে বেশি সময় নেয়, ফলে শরীর দীর্ঘক্ষণ শক্তি পায়। এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং পুষ্টি শোষণ উন্নত করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

মানসিক চাপ কমাতে অশ্বগন্ধা
ক্লান্তির অন্যতম বড় কারণ হলো মানসিক চাপ। অশ্বগন্ধা একটি প্রাচীন ভেষজ যা শরীরকে মানসিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। নিয়মিত অশ্বগন্ধা (দুধ বা অন্য খাবারের সাথে) গ্রহণ করলে শরীরের ক্লান্তি কমে এবং সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় থাকে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রেখে সারাদিন স্থিতিশীল কর্মশক্তি জোগায়।

হালকা ও পুষ্টিকর সবুজ মুগ ডাল
উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনের একটি বড় উৎস হলো সবুজ মুগ ডাল। এটি অত্যন্ত সহজপাচ্য এবং শরীরকে ভারী বোধ না করিয়েই পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করে। দুপুর বা রাতের খাবারে স্যুপ, ডাল বা সালাদ হিসেবে মুগ ডাল যুক্ত করলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটে এবং দীর্ঘক্ষণ কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়।

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই সাধারণ কিন্তু কার্যকর খাবারগুলো যোগ করলে আপনি নিজেই নিজের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের পার্থক্য টের পাবেন। সুস্থ ও প্রাণবন্ত জীবনযাপনে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই।