অনলাইন ও অবৈধ হাটের প্রভাব: কোরবানির পশুর হাটে দরপতন, রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় চসিক
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে পশুর হাটের প্রস্তুতি জোরেশোরে শুরু হলেও ইজারামূল্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে অস্থায়ী হাটগুলোতে আশানুরূপ দর না পাওয়া এবং কোথাও কোথাও দরপত্রই জমা না পড়ায় বড় অঙ্কের রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় পড়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
চসিক সূত্রে জানা যায়, করপোরেশনের অনুমোদিত ২২টি হাটবাজারের মধ্যে ৬টি পশুর হাট থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়। তবে ২০২০ সালের পর এবারই অস্থায়ী হাটে সবচেয়ে কম দর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নগরের তিনটি স্থায়ী পশুর হাট থেকে এবার প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের আশা করছে চসিক। এর মধ্যে নগরের বৃহত্তম সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা নিয়েছেন ফজলে আলিম চৌধুরী। পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬ টাকায়। তবে মুরাদপুরের বিবিরহাটের ইজারামূল্যে বড় পতন দেখা গেছে। গত বছর এই হাটটির ইজারামূল্য ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা হলেও এবার তা নেমে এসেছে মাত্র ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায়।
অন্যদিকে, অস্থায়ী হাটগুলোর অবস্থা আরও হতাশাজনক। কর্ণফুলী এলাকার অস্থায়ী পশুর হাটে সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা দর উঠেছে। কিন্তু মুসলিমাবাদ মাঠের হাটে দর পাওয়া গেছে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওয়াজেদিয়া হাটের জন্য এবার কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি।
হাট সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের মতে, পশুর হাটের ব্যবসায় এখন আর আগের মতো লাভ নেই। এর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:
- অনলাইনে পশু কেনাবেচা ব্যাপক হারে বেড়েছে। এছাড়া অনেক ক্রেতা ঝামেলা এড়াতে সরাসরি খামার থেকে পশু কিনছেন।
- মানুষের মধ্যে ভাগে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় হাটে সার্বিকভাবে ক্রেতা ও পশুর চাহিদা কমেছে।
- পাড়া-মহল্লায় যত্রতত্র অনুমোদনহীন হাট বসায় বৈধ হাটগুলোতে ক্রেতা সমাগম কমে যাচ্ছে।
- হাটের নিরাপত্তা, সিসিটিভি স্থাপন, কর্মচারী নিয়োগ এবং অবকাঠামো তৈরির খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ইজারাদারদের লাভ সীমিত হয়ে পড়েছে।
বড় অঙ্কের ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী। তিনি বলেন, "এত বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে হাট নিয়েছি। এখন সেই টাকা উঠবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা আছে। উত্তরবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত গরু না এলে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।"
রাজস্ব ঘাটতি ও অবৈধ হাটের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে চসিক। সংস্থাটির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, "অবৈধ হাটের কারণে প্রতিবছর রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি যানজট, চাঁদাবাজি, অপরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়। তাই এবার অবৈধ হাট বন্ধে সিটি করপোরেশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।"
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "অনুমোদিত হাটের বাইরে কোথাও পশুর বাজার বসতে দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।"
তিনি আরও জানান, ইজারাদার ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বৈধ হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও জোরদার থাকবে।
