ঢাকা রবিবার, ১৭ই মে ২০২৬, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


কোরবানির ঈদ সামনে: চড়া মসলার বাজার, নাভিশ্বাস সাধারণ ক্রেতাদের


প্রকাশিত:
১৬ মে ২০২৬ ১৬:৫৮

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মসলার বাজারে উত্তাপ ছড়িয়েছে। কোরবানির ঈদ আসতে এখনো কিছু সময় বাকি থাকলেও এরই মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও জিরাসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো মসলার দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাহিদা ও আমদানিতে সংকটের অজুহাত দিলেও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, উৎসবের সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর রামপুরাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রান্নার অপরিহার্য উপাদান পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে, যা গত মাসে ছিল ৩০-৪৫ টাকা। দেশি রসুনের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকায় ঠেকেছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জিরার দাম। গত মাসে ৫৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া জিরা এখন ৭০০ টাকা এবং জিরার গুঁড়া ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুই লিটারের সয়াবিন তেলের দাম ৪০-৫০ টাকা বেড়ে ৪৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। লবঙ্গের দাম কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০০ টাকায়। এছাড়া দারুচিনি ৫০০-৬০০ টাকা ও আদা ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে এলাচ, হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার বাজার।

বাজার করতে আসা গৃহিণী তাসলিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বাংলাদেশে কোনো উৎসব আসার আগেই জিনিসের দাম বাড়ানো একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে। আগে যে পরিমাণ বাজার এক হাজার টাকায় করা যেত, এখন তার অর্ধেকও পাওয়া যায় না। ঈদ উপলক্ষে বাজারে সব মসলার দামই বাড়তি।"

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। রামপুরা বাজারের মসলা ব্যবসায়ী রুবেল হাসান বলেন, "ঈদের সময় মসলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কম।"

এদিকে, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য আংশিকভাবে চাহিদা ও আমদানিকারকদের প্রভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "কোরবানির মৌসুমে মসলার চাহিদা থাকে বেশি। তবে এবার চাহিদা অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম হওয়ায় দাম আকাশচুম্বী হয়নি। কিন্তু সয়াবিন তেলের বাজারে যে অস্থিরতা, তার পেছনে সরকারের দুর্বল তদারকি দায়ী। ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দাম বাড়াচ্ছেন।"

তিনি আরও জানান, অনেক আমদানিকারক আগে থেকেই পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোর কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করেন এই ভোক্তা অধিকার নেতা।

কোরবানির ঈদের আগে মসলার এই ঊর্ধ্বমুখী দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রেতাদের দাবি, উৎসবের আনন্দ যাতে বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য এখনই বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।