ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২১শে মে ২০২৬, ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য চুরি সিন্ডিকেটের মূলহোতা যমজ দুই ভাই, গ্রেপ্তার ১


প্রকাশিত:
২০ মে ২০২৬ ১৩:২১

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া আমদানিকৃত পণ্য চুরি করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে যমজ দুই ভাই নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির ঘটনায় মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে তার ভাই নুরউদ্দিন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হওয়া চীন থেকে আমদানিকৃত ক্রোকারিজ পণ্য ঢাকায় নেওয়ার পথে একটি কাভার্ডভ্যান থেকে ৯৪ কার্টন পণ্য চুরি হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে উঠে আসে যমজ দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ চুরি সিন্ডিকেটের তথ্য।
পরে অভিযান চালিয়ে পটিয়ার বাকখাইন এলাকার গ্রামের বাড়ি থেকে মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় নুরউদ্দিন পালিয়ে যায়। এর আগে কাভার্ডভ্যান চালক নীরব চৌধুরী সাকিব, সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন ও আশিক রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য।

পুলিশ জানায়, নগরীর কদমতলী ডিটি রোড এলাকায় তাদের একটি ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস অফিস রয়েছে। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার আড়ালে তারা বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যানের দরজার সিল কৌশলে খুলে পণ্য চুরি করত। এ কাজে তাদের নির্দিষ্ট লোকও রয়েছে। একটি কাভার্ডভ্যানের সিল খোলা ও পুনরায় লাগাতে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হতো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে অভাবের তাড়নায় পটিয়ার গ্রামের বাড়ি ছেড়ে নগরীতে আসে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিন। শুরুতে তারা গাড়ির হেলপারের কাজ করলেও পরে পরিচয় হয় ‘মনা’ নামে এক চোরাই পণ্য সিন্ডিকেট সদস্যের সঙ্গে। এরপর ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য চুরির চক্রে।

বর্তমানে তাদের মালিকানায় রয়েছে কয়েকটি কাভার্ডভ্যান। ক্রোকারিজ চুরিতে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যানটিও নুরউদ্দিনের বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া তারা ব্যবহার করত দামি এসইউভি গাড়ি ও উচ্চমূল্যের মোটরসাইকেল। গ্রামের বাড়িতে সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত কোটি টাকার ভবনও নির্মাণ করেছে তারা। অভিযান চালিয়ে একটি এসইউভি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, “নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বন্দর থেকে পণ্য চুরির সঙ্গে জড়িত। তারা এটিকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। বন্দরকেন্দ্রিক তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে।” তিনি আরও জানান, চোরাই পণ্য নগরীর নির্দিষ্ট গুদামে রাখা হতো। উদ্ধার হওয়া ক্রোকারিজ পণ্যগুলো টেরিবাজার এলাকার একটি গুদামে রাখা হয়েছিল।

এজাহারে যা বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী জামাল হোসেন গত ১১ মে বন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, ঢাকার মেসার্স সিয়াম ট্রেডার্সের মাধ্যমে চীন থেকে ১২০০ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য আমদানি করা হয়। গত ৫ মে সকালে তিনটি কাভার্ডভ্যানে করে পণ্যগুলো ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। পরদিন সকালে ঢাকায় পণ্য খালাস করতে গিয়ে দেখা যায়, একটি কাভার্ডভ্যান থেকে ৯৪ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য কম রয়েছে। পরে বিষয়টি তদন্তে নামে পুলিশ।

আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিল দুই ভাই, এর আগেও ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি নগরীর পাহাড়তলী পোর্ট কানেকটিং রোড এলাকা থেকে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তখন তাদের কাছ থেকে ছয় রোল কাপড় উদ্ধার করা হয়, যার বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কাপড় ও সুতার রোলবাহী কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্য চুরি করে আসছে। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার আড়ালে এটাই ছিল তাদের মূল পেশা।