ঢাকা শুক্রবার, ১৫ই মে ২০২৬, ২রা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


আমিরাত উপকূল থেকে রহস্যময় জাহাজ জব্দ, নেওয়া হচ্ছে ইরানের দিকে: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা


প্রকাশিত:
১৪ মে ২০২৬ ১৮:৪৫

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পূর্ব উপকূলের কাছ থেকে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও (UKMTO) বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করার সময় একদল ‘অননুমোদিত ব্যক্তি’ জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ফুজাইরাহ বন্দরের উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৩৮ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করা অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জাহাজটিতে উঠে পড়ে। এরপর জাহাজটির অভিমুখ পরিবর্তন করে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজটির নাম, মালিকানা কিংবা কারা এটি জব্দ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বিশ্বের দুই প্রধান নেতা—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, দুই নেতার আলোচনায় বর্তমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা প্রধান্য পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এই জাহাজ জব্দের ঘটনা বিশ্ব বাজারে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

জাহাজ জব্দের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েল দাবি করে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। তবে আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। কাতার জানিয়েছিল, আমিরাত থেকে তাদের জলসীমায় আসার পথে জাহাজটি আক্রান্ত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরটি পারস্য উপসাগরের বাইরে অবস্থিত দেশটির অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। ইরানের সাথে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলটি অতীতেও একাধিকবার নাশকতামূলক হামলার শিকার হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির কাছে এই জাহাজ জব্দের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় চলাচলের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ঘটনার পর থেকে ওই রুটে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।