ঢাকা রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


মাগুরায় স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে স্বামীর আত্মহত্যা


প্রকাশিত:
৭ জুন ২০২৬ ১৭:৪১

মাগুরা স্টেডিয়াম পাড়ায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। জিহাদ (১৮) নামের এক যুবক স্ত্রী মীম খাতুনকে (১৭) বারবার তার কাছে ফিরে আসার অনুরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী মীম খাতুন আসতে অস্বীকৃতি জানালে ভিডিও কল চলাকালীন অবস্থায় তিনি ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা পুলিশ বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন জিহাদ হোসেন (১৮) নামে এক যুবক। একটি সামান্য পারিবারিক বিরোধ কীভাবে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সুখকে মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে, জিহাদের মৃত্যু যেন তারই নির্মম উদাহরণ।

নিহত জিহাদ হোসেন মাগুরা সদর উপজেলার কুঁচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুরিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় দেড় বছর আগে ঝালকাঠি জেলার মীম খাতুনের সঙ্গে জিহাদের বিয়ে হয়। ভালোবাসার সেই সম্পর্কই একসময় পরিণতি পায় সংসার জীবনে। কিন্তু সেই সংসার টিকলো না দেড় বছরও। দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েনের করুণ পরিণতিতে অকালে ঝরে গেল এক যুবকের জীবন।

স্বজনদের ভাষ্যমতে, ঈদ উপলক্ষে বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। জিহাদ স্ত্রীকে ঈদের নামাজের পর নিজে নিয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দিলেও তা মেনে নেননি তার স্ত্রী। একপর্যায়ে সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান তিনি।

জিহাদের কাকি লিমা খাতুন বলেন, “আমার ভাতিজা বারবার তার স্ত্রীকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছে। ফোন করেছে, বুঝিয়েছে, কিন্তু কোনোভাবেই তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এতে সে ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিল।”

নিহতের ছোট বোন অপর্ণ বলেন, ভাই অনেকবার ভাবিকে আসতে বলেছে। কিন্তু তিনি আসবেন না বলে জানিয়ে দেন। সেই কষ্ট, অভিমান আর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ভাই শনিবার রাতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় আত্মহত্যা করে।”

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন জিহাদ। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়।

স্বজনরা জানান, দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে জিহাদ ও মীমের পরিচয় হয়। পরে পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু যে সম্পর্ক ভালোবাসা দিয়ে শুরু হয়েছিল, সেই সম্পর্কের ভাঙনের বেদনাই শেষ পর্যন্ত এক যুবকের প্রাণ কেড়ে নিল।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই বিরোধ যদি আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান না হয়, তবে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, জিহাদের মৃত্যু তারই মর্মস্পর্শী দৃষ্টান্ত।

এসআই মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, আমি ঘটনার সংবাদ পেয়ে তৎক্ষণিক আমার ফোর্স নিয়ে যায়, তখন আমি যেয়ে দেখি ভিডিও অবস্থায় রেখে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন , এবং ভিডিও অবস্থায় মোবাইল উদ্ধার করে। আমি উদ্ধার করে মাগুর ২৫০ বিশিষ্ট হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন বিষয়টা জেনেছি এবং আমি পুলিশ পাঠিয়েছি তাকে উদ্ধার করে লাশ কে মাগুরা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ হয়নি ।