ঢাকা রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


উত্তরবঙ্গের অনন্য বিনোদন কেন্দ্র: ঈদ ও দুর্গাপূজায় পর্যটকদের মিলনমেলায় মহিপুর তিস্তা সেতু


প্রকাশিত:
৭ জুন ২০২৬ ২০:৩৪

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ‘মহিপুর তিস্তা সেতু’ বর্তমানে কেবল উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যমই নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে দুই বাংলার মানুষের এক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। তিস্তা নদীর প্রমত্তা রূপ আর দিগন্তজোড়া চরাঞ্চলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বছরজুড়েই এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। তবে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজায় এই সেতু এলাকা যেন এক বিশাল জনসমুদ্র তথা পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ছুটিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে তিস্তা সেতুতে ঘুরতে আসেন। ঠিক একইভাবে দুর্গাপূজার সময়ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে তিস্তা নদীর শীতল হাওয়া, চরাঞ্চলের সবুজ প্রকৃতি এবং গোধূলিবেলায় সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য পর্যটকদের বিমোহিত করে। উৎসবের দিনগুলোতে এই সেতু এলাকা হয়ে ওঠে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উৎসবের দিনগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেতু এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে। তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর ও বয়োবৃদ্ধদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক প্রাণচঞ্চল আবেশ তৈরি হয়। সেতুর দুই পাশে গড়ে ওঠা ছোট ছোট দোকান ও ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোতেও থাকে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

তবে পর্যটকদের এই ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির তুলনায় এখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত নগণ্য। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা। এছাড়া পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভাব, রাতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন স্থানীয় ও পর্যটকরা। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সেতু সংলগ্ন এলাকায় আধুনিক বিনোদনমূলক অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহিপুর তিস্তা সেতুকে কেন্দ্র করে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র বা পার্ক গড়ে তোলা সম্ভব। এটি করা হলে কেবল দর্শনার্থীদের বিনোদনের সুযোগই বাড়বে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, যা উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটু প্রশান্তি খুঁজতে থাকা পর্যটকদের প্রত্যাশা, যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি পড়লে মহিপুর তিস্তা সেতু অচিরেই উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পাবে।